নিজস্ব প্রতিবেধকঃ- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সব সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন মন্তব্য করে সাবেক বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে সরকারের আলোচনায় বসার প্রয়োজনীয়তা এখন আর দেখছেন না তিনি |
শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে চারদলীয় জোট সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “এক সময় আমিই বলেছি, দেশের সমস্যা সমাধানে ও সংকট নিরসনে দুই নেত্রী খালেদা জিয়া ও আপনাকে একসঙ্গে বসতে। বারবার বলেছি, আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। দেশরক্ষায় সংলাপই একমাত্র সমাধান।“মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নেতাকর্মীকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই- সংলাপের কোনো প্রয়োজন নাই। আলোচনার কোনো প্রয়োজন নাই।“আপনি একাই দিতে পারেন, এই দেশের সকল সমস্যার সফল সমাধান। আপনি একক সিদ্ধান্ত দেবেন এবং আপনিই একক কৃতিত্ব নেবেন। এই কৃতিত্ব শেয়ার করার মতো দ্বিতীয় কোনো যোগ্য ব্যক্তি নাই।”গুলশানের একটি হোটেলে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার জাতীয় সম্মেলন ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে দেশের সব ক্ষমতার ‘আধার’ হিসাবে অভিহিত করেন নাজমুল হুদা।
“বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রনায়ক আপনি নিজে। আপনি এই দেশকে দিতে পারেন সঠিক নির্দেশনা। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সর্বত্র দৃশ্যমান উন্নয়নের জোয়ার বইছে,” বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে নাজমুল হুদা বলেন, “আপনিই পারবেন, স্বৈরশাসনের বেড়াজাল ছিন্ন করে দেশে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করে, জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে।
“আপনিই পারবেন, এই দেশের বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করতে। দেশকে দলীয়করণের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে, দেশের প্রশাসনকে দলের প্রভাব থেকে দূরে রাখতে আপনিই পারবেন।”
নির্বাচন কমিশনকে ‘নিরপেক্ষ’ করতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাজারো মানবাধিকার কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি।
১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর গঠিত প্রথম স্থায়ী কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন নাজমুল হুদা। খালেদা জিয়ার দুই সরকারের আমলে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
নানা ঘটনায় আলোচিত নাজমুল হুদা ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা দেওয়ার কারণে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২০১০ সালের ২৩ জুন তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি তখন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।ভুল স্বীকার করে খালেদা জিয়ার কাছে আবেদন করার পর ২০১১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আবার বিএনপির সদস্যপদ ফিরে পান নাজমুল হুদা। কিন্তু ২০১৪ সালের ৬ জুন সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অভিমানের কথা তুলে ধরে বিএনপি ত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
ঢাকার দোহারের এই সাবেক সাংসদ বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলাও হয়েছিল। ২০১০ সালে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নাজমুল হুদা বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে নতুন দল খোলেন। অবশ্য ওই দল থেকেও তিনি বহিষ্কৃত হন।
দ্বিতীয় দফা বিএনপি ছড়ার পর গতবছর মে মাসে তিনি গঠন করেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স- বিএনএ। কিন্তু ওই দলের তেমন কোনো কার্যক্রম না থাকায় এক পর্যায়ে তার বিএনপিতে ফেরার গুঞ্জন ওঠে। এরপর গতবছর ২৯ নভেম্বর নাজমুল হুদা ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেন। আর চলতি বছর জানুয়ারিতে ৩০টি দল নিয়ে ‘বাংলাদেশ জাতীয় জোট’ নামে নতুন একটি মোর্চা গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
সবশেষ গত মাসে ‘তৃণমূল বিএনপি’ নামে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন নাজমুল হুদা।











