জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া : দলীয় কার্যালয় ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম। বিভিন্ন সময় বেশ দাপটের সাথে রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপি নিজ নিজ শাসনামলে বিচরণ করলেও সামান্য একটি দলীয় কার্যালয় স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে এই দুই দলের দায়িত্বশীলরা। অথচ উপজেলায় এই দুই প্রধান দলের নেতাকর্মীরা নিজ শাসন আমলে দলীয় পরিচয়ে বিভিন্ন ফায়দা নিয়ে ব্যাপক অর্থ কড়ির মালিক হয়েছেন। দাপুটে নেতাদের নিজ এলাকায় তৈরী করেছেন নিজস্ব অফিস। টিআর-কাবিখার ভুয়া প্রকল্পের অর্থেও নির্মিত হয়েছে এসব অফিস। কিন্তু দল দুটির উপজেলা পর্যায়ে নিজস্ব কোন কার্যালয় নেই। নেতার বাড়ি, খামার বাড়ি ও চায়ের দোকানে বসেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তারা।
সুত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সারে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সভা সমাবেশ হতো গোচরা বাজার কেন্দ্রিক। আর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো তৎকালীন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান জহির আহমদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাদেকুননুর সিকদার বাড়ি কেন্দ্রিক। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও দলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল পূর্বের ন্যায়। এরপর দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়ে খলিলুর রহমান চৌধুরী সভাপতি ও কাজী জসিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে নেয়ার পর থেকে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয় খলিলুর রহমান চৌধুরীর মুরাদনগরের বাড়িটি। ২০০১ সালে চারদলীয় ঐক্য জোট সরকার ক্ষমতায় আসা, ১/১১ এর চড়াই উৎড়াই সহ ২০০৯ সাল আওয়ামীলীগের ক্ষমতায় আসার পরও অদ্যাবদি দলের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সভা ও সাংগঠনিক সভা দলের সভাপতি সাবেক মেয়র খলিলুর রহমান চৌধুরীর বাড়িতেই হয়ে আসছে। ২০০৯ সালের পর টানা সাত বছরের ক্ষমতার দাপুটে থাকা আওয়ামীলীগ এখনো রাঙ্গুনিয়ায় তাদের নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে পারেননি। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর দলের সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ জসিমের প্রস্থান ঘটে দলের কার্যক্রম থেকে। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার। উত্তর রাঙ্গুনিয়ার রাণিরহাটে তাঁর নিজস^ কার্যালয় থাকলেও উপজেলা সদরে বসে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার কোন অফিস নেই তাঁর। ফলে তাকে বাধ্য হয়ে অনেক সময় চায়ের দোকানে বসে দলীয় চিঠিপত্র বিলিসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। মাঝে মাঝে দলীয় কার্যলয় স্থাপনের কথা শোন গেলেও সেটি কোথায় হবে? এবং কোন এলাকায় স্থাপন করলে কাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এসব প্রশ্নে ঘুরপাক খাওয়ায় এখনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি আাওয়ামীলীগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী দলীয় কার্যালয়ের ব্যাপারে দলেও সিনিয়র ও দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন। তারা বলেন, ‘দলীয় কার্যালয়ের ব্যাপারে যখনই কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই কথা ওঠে কোথায় হবে? তখন দেখা যায়, নেতৃবৃন্দের নিজ আয়ত্বের বাইরের কোন স্থানের কথা ওঠলে তখনই বিরোধ বাঁধে আর দলীয় কার্যালয় হয়ে ওঠে না।’ এসময় তারা অদূর ভবিষ্যতেও নিজস্ব কোন রাজনৈতিক কার্যালয় হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ পোষণ করেন। সম্প্রতি দলীয় কার্যালয় স্থাপনের জন্য দলটি ফান্ড তৈরি করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল নেতারা।
অপরদিকে ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আগমনের পর থেকে দলটির সাংগঠনিক ও দলীয় কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয় চৌধুরী পরিবারের খামারবাড়িক কাদের নগর নেন্দ্রিক। কিছুদিন সেখানে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে সাইনবোর্ডও লাগানো হয়। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে রাঙ্গুনিয়ায় সর্বত্র তাদের রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করলেও ম্যানেজ করতে পারেনি একটি দলীয় কার্যালয়। ক্ষমতার শেষ মুহুর্তে এসে উপজেলা সদর ইছাখালীতে সরকারী খাস জায়গা দখল করে একটি অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় করলেও ১/১১ এর পট পরিবর্তনর পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তা ভেঙ্গে দেয়। ফলে এই অস্থায়ী কার্যালয়টিই হারিয়ে এখনও স্থায়ী কোন কার্যালয় গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। দলীয় কার্যালয়ের নামে দখল করা জায়গটি এখনও চায়ের দোকানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে রাঙ্গুনিযায় দলটির দৃষ্টিগোচর কোন কার্যক্রম নেই। মাঝে মাঝে অনেকটা গোপনে দলীয় নেতাকর্মীদের ঘরে কিংবা নেতৃবৃন্দের নেতৃবৃন্দের নিজ কার্যালয়ে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেই কাদের নগরেও আগের সেই ঝৌলুস নেই। সরকারি দলের রোষানলে পড়ার ভয়ে চৌধুরী পরিবারের কেয়ার টেকার ছাড়া ভুলেও নেতাকর্মীরা সেদিকে পা মাড়ান না। দলীয় কার্যালয় না থাকায় রাঙ্গুনিয়অ ও শহরের বিভিন্ন চায়ের দোকান ও হোটেলে বসে সাংগঠনিক আলাপ আলোচনা সাড়েন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
তবে সাধারণ জনগণ বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছে, ‘বর্তমানে দেশে জনগণের উন্নয়নের জন্য যে আদর্শিক রাজনীতি তা বিলুপ্ত হওয়ার পথে। এখন দেশের চাইতে নিজের আখের গোচাতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন নেতারা। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন জনগণের চাইতে সে দলের নেতাদের নিজেদেরই উন্নয়ন হবে এটাকেই স্বাভাবিক ভাবছেন সাধারণরা। আর একই কারণেই দুই দলে এখনও দলীয় কার্যালয় হয়ে ওঠেনি বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।











