
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাড়ির পথে প্রবাসীরা। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আজ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আর প্রিয়জনদের জন্য উপহারের পসরা সাজিয়ে প্রবাসীরা ফিরছেন তাঁদের চেনা ঠিকানায়, প্রাণের টানে।

প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারের জন্য বিভিন্ন শখের জিনিসপত্র কিনেছেন। কার্টন ভর্তি করে সেই জিনিসপত্র নিয়ে তারা অপেক্ষা করছেন চেক-ইন কাউন্টারে। প্রতিটি কার্টন ও লাগেজে প্রিয়জনদের জন্য ভালোবাসা আর ত্যাগের গল্প লেখা।
বিমানবন্দরের প্রস্থান এলাকায় সারি সারি ট্রলিতে সাজানো বিশাল আকারের কার্টনগুলো প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রম আর ভালোবাসার প্রতীক। এসব কার্টনে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী থেকে শুরু করে পোশাক, খেলনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবই রয়েছে। প্রবাসীরা জানান, দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে তাদের পাঠানো রেমিটেন্স যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানোটাও তাঁদের কাছে সমান জরুরি।

বিমানবন্দরের কর্মীরাও প্রবাসীদের এই আনন্দ যাত্রায় সহযোগিতা করছেন। চেক-ইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর পরই তাঁরা বিমানে আরোহণ করবেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে তাঁদের বিমান।
এই দৃশ্য শুধু কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিমানবন্দরে একই চিত্র দেখা যায়। প্রবাসীরা বছরের পর বছর ধরে তাঁদের পরিবার ও দেশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের এই ত্যাগ ও ভালোবাসা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
অগণিত প্রবাসীর এই আত্মত্যাগ এবং দেশের প্রতি তাদের অবিচল ভালোবাসা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজে এক অনন্য অবদান রাখছে। তাদের এই ফিরে আসা কেবল একটি ভ্রমণ নয়, এটি ভালোবাসার পুনর্মিলন এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবি।

আ হ জুবেদ (সম্পাদক,অগ্রদৃষ্টি)











