নিজস্ব প্রতিবেদক, কুয়েত সিটি: বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও আকাশসীমা সংক্রান্ত বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বিদেশে আটকা পড়া কুয়েতি নাগরিক এবং প্রবাসীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিমান সংস্থা ‘কুয়েত এয়ারওয়েজ’। সংস্থাটির চেয়ারম্যান আব্দুল মোহসেন আল-ফাকান গত শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, এ পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ কুয়েতি নাগরিক এবং বিভিন্ন দেশের প্রবাসী দেশে ফেরার জন্য তাদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। বর্তমানে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সব ধরনের অপারেশনের জন্য প্রস্তুত থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এবং আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সরাসরি বিমান চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। তবে এই সংকট কাটাতে কুয়েত এয়ারওয়েজ একটি বিকল্প রুট ব্যবহার করছে। চেয়ারম্যান জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১,৬০০ কুয়েতি নাগরিককে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিশেষ ফ্লাইটে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং সেখান থেকে তারা সড়কপথে কুয়েতে প্রবেশ করবেন। ইতিমধ্যেই প্রায় ১,২০০ যাত্রী যারা বিভিন্ন ট্রানজিটে আটকা পড়েছিলেন, তারা সৌদি আরবের মাধ্যমে সড়কপথে কুয়েতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
কুয়েত এয়ারওয়েজের তথ্যমতে, ম্যানচেস্টার, লন্ডন, বার্সেলোনা, মিউনিখ, প্যারিস, মিলান, ইস্তাম্বুল, ম্যানিলা, কায়রো এবং আম্মানের মতো প্রধান গন্তব্যগুলো থেকে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার থেকে দাম্মাম (কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) রুটে কুয়েত এয়ারওয়েজের ‘KU114D’ ফ্লাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের পরিবহনের বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যাদের পূর্বনির্ধারিত বুকিং রয়েছে কিংবা যারা নতুন করে টিকিট বুক করতে চান, উভয় পক্ষকেই আগামী ৬ মার্চের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে যে, আকাশপথ বন্ধ থাকলেও তারা তাদের নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিমান সংস্থাটির বড় ধরনের কোনো আর্থিক ক্ষতি হয়নি বলেও নিশ্চিত করেছেন চেয়ারম্যান। কুয়েতি নাগরিক ও প্রবাসীদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক কাস্টমার সার্ভিস ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (+৯৬৫ ১৮০২০৫০) খোলা রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের ম্যানচেস্টারের মতো বিমানবন্দরগুলোতে আগেভাগেই পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে যাত্রা নির্বিঘ্ন হয়। কুয়েত সিভিল এভিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে এই বিশাল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করা হচ্ছে।











