গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত হলো প্রথমবারের মত বাংলাদশী ও ইতালীয় শিল্পীর যৌথচিত্র এবং ভাস্কর্য প্রদর্শণী অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল মিলানের অফিস মিলনায়াতনে ১৯ মে সন্ধ্যা ছয়টায় কনসাল জেনারেল মিজ রেজিনা আহমেদ এবং প্রধান অতিথি আনোনে দি ব্রিয়াঞ্জা (লেক্কো প্রভিন্স,ইতালি)শহরের মেয়র জনাব প্যাট্রিজিও সিদোতি যৌথভাবে প্রদর্শণটির শুভাদ্বোধন করেন।
প্রদর্শণটিতে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী জনাব খুরশিদ আলম সেলিম এবং ইতালীর আনোনে ব্রিয়াঞ্জা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও ভাষ্কর জনাব পাওলো পল্লি -এই দুই শিল্পীর চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে।
নিবিষ্ট প্রকৃতির পর্যবেক্ষক সেলিম একজন বিমূর্ত শিল্পী, অন্যদিকে বহুমাত্রিক শিল্পী পাওলো পল্লি বিভিন্ন মাধ্যমে পেইন্টিং, ভাষ্কর্য,খোদাই ও নকশার জন্য প্রসিদ্ধ। দুই শিল্পীরই বিশ্বের বিভিন্ন অংশে একক ও যৌথ চিত্র প্রদর্শণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।বেশ কিছু সম্মান জনক পুরুষ্কারও তাদের রয়েছে।উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের বেইজিং অলিম্কিকে সেলিম একজন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁকে অলিম্পিক পদক ও মশালে ভূষিত করা হয়
ইতালির তিলোত্তমা নগরী মিলানে অবস্হিত কূটনৈতিকবৃন্দ,লোম্বারদিয়া অঞ্চল থেকে আগত অনেক অতিথি, প্রবাসী বাংলাদেশী ও সাংবাদিক এবং মিলানের শিল্প ও ফ্যাশন অঙ্গনের অতিথিদের উপস্হিতিতে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মিজ রেজিনা আহমেদ, মেয়র প্যাট্রিজিও সিদোতি,ওমানের কনসাল জনাব জোসেপ্পে দি পাসকেল্লি পেপে,স্কিরা পাবলিশার্স এর আন্তর্জাতিক কমিশন ভিত্তিক সম্পাদক মিজ রোজা মারিয়া ফালভো এবং শিল্পীদ্বয় বক্তব্য রাখেন।
কনসাল জেবারেল রেজিনা আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ” এ ধরনের উদ্যোগ দু-দেশের জনগণের মধ্যে মেল বন্ধন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে এবং আমার বিশ্বাস যে,বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরীতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে”।
মেয়র তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ্য করেন যে,প্রথমবারের মত তিনি বাংলাদেশ ইতালী চিত্র শিল্পীর যৌথ অংশগ্রহণে চিত্র প্রদর্শণী আয়োজনে বাংলাদেশের এ ধরনের উদ্যোগ পরিলক্ষিত করেছেন।এজন্য তিনি অত্যান্ত আনন্দিত এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে,এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।সকলের বক্তব্যের শেষে অংশগ্রহনকারী উভয় চিত্র শিল্পীর হাতে সম্মাননা ক্রেষ্ট তুলে দেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মিজ রেজিনা আহমেদ।
এদিকে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল মিলান এর আয়োজনে বাঙলা বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, আবৃত্তি শিল্পী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব তুহিন মাহমুদ এবং মিলান বাঙলা প্রেসক্লাবের সংবাদ শ্রমিক রিয়াজুল ইসলাম কাওছারকে সনদপত্র হাতে তুলে দেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মিজ রেজিনা আহমেদ।
চিত্রশিল্পী খোরশেদ আলম সেলিম তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ” আমি যখন কাজ করি বিভিন্ন দেশে তখন আমাকে পরিচয় দিতে হয় একজন বাংলাদেশী হিসেবে, আমি গর্ববোধ করি আমার শিল্পকর্মে বাংলাদেশকে উপস্হাপন করতে পারছি বিশ্ব দরবারে।আমার শিল্পকর্ম দেখে বিদেশীরা অবাক হয় একজন গরীবদেশের চিত্র শিল্পীর মাঝে ইউরোপীয় চিন্তা-চেতানার বিন্যাস ঘটায় কত চমৎকার ভাবে শিল্পায়ন করছে চিত্রকে,আমাদের আগামী ভবিষ্যত এগিয়ে আসবে এবং বাংলাদেশ একদিন শিল্পে পরিপূর্ণতা পাবে বিশ্বের মাঝে।
সবশেষে, অতিথিদের বাংলাদেশী খাবার আপ্যায়ন করা হয়।২০-২১শে ২০১৭ প্রদর্শণীটি সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।