রাজধানী ঢাকায় দুটি পৃথক অভিযানে ১৬ জন ভুয়া ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও গোয়েন্দা পুলিশ ব্যবহার করে এমন কিছু সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে পুলিশ বা ডিবি পরিচয় দিয়ে অপরাধের খবর প্রায়ই শোনা যায়। গত এক বছরে এমন ৫০ জন গ্রেফতার হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
তারা বলছে গ্রেফতার হওয়ার সময় এই ১৬জন আসলে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আর সেই প্রস্তুতি অংশ হিসেবে তাদের কাছে অস্ত্র তো ছিলই এমনকি তাদের কাছে ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, হ্যান্ড-কাফ, ওয়াকিটকি আর গাড়িতে লাগানোর জন্য ডিবি পুলিশের স্টিকার পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অপরাধের এমন ঘটনা কীভাবে ঘটছে?
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার মাসুদুর রহমান বলছেন, “তারা মূলত ডাকাতির সাথে জড়িত। মাঝে মাঝে ছিনতাই করে। বিশেষ করে কেউ ব্যাংক থেকে বড় অংকের টাকা তুললে তাদের অনুসরণ করে এবং অর্থকড়ি নিয়ে কোথাও নামিয়ে দেয়। তারা সুযোগ মতো ডিবি পরিচয় ব্যবহার করে হয়ত লোকজনের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি করার জন্য।”
কিন্তু পুলিশ ব্যবহার করে এমন সামগ্রী কোথা থেকে তারা জোগাড় করে সেই উত্তরটা মেলেনি তার কাছ থেকে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নুর খান লিটন বলছেন, পুলিশের সাদা পোশাকে গ্রেফতারের সংস্কৃতি, অপরাধীদের জন্যও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দেয়াটা সহজ করে দিয়েছে।
তিনি বলছেন, “আমাদের দেশে যেহেতু সিভিল ড্রেসে ডিবি বা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এমনকী পুলিশও কিছুদিন আগে পর্যন্ত অপারশেন করতো- তাদের সিভিল টিম বলা হতো। অপরাধীরা এখন এই ধরনের কৌশল গ্রহণ করছে।”
তার মতে পুলিশের সাদা পোশাকে গ্রেফতারের সংস্কৃতি, পুলিশের নিজেরই মাঝে মাঝে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা আর তাতে বিচারহীনতা অপরাধীদেরও উস্কে দিচ্ছে।
তিনি বলছেন, “বিগত দিনে আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে দেখছি, ডিবি বা র্যাব পরিচয়ে মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। হয়ত মনে পড়বে জালাল নামে লালমাটিয়ার একজন ড্রাইভারের ডেড বডি পাওয়া গিয়েছিল ডিবি অফিসের ছাদে পানির ট্যাংকে। সেই ঘটনায় ডিবির অনেক সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথা আমরা জেনেছিলাম। এই ঘটনাগুলো যখন হয়, আমরা দেখি কোনো একটা পর্যায়ে তারা বিচার থেকে বেরিয়ে আসেন। অর্থাৎ তাদের শৃঙ্খলার ভেতর দুর্বলতা রয়েছে।”
নুর খান লিটন বলছেন পুলিশের মতো বাহিনীতে এসব ঘটনার বিষয়টি আরো গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত এবং উচিত বিচার নিশ্চিত করা।