
কুয়েতে বাংলাদেশ বিমানের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার এ কে এম ফরহাদ জানিয়েছেন যে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) কুয়েতে বাংলাদেশ বিমানের অফিসে আমন্ত্রিত বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সাংবাদিক নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান কান্ট্রি ম্যানেজার।
তিনি বলেন,কুয়েত প্রবাসী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিমানের কানেকশন টাইম কমানো, যা এরই মধ্যে চট্টগ্রাম রুটের জন্য ৩ ঘণ্টায় কমিয়ে আনা হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগ নিশ্চিত করতে কান্ট্রি ম্যানেজার এ কে এম ফরহাদ জানান, বর্তমান বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিমানের টিকিট মূল্য একটি সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অন্যান্য এয়ারলাইন্সের টিকিটের মূল্যের চেয়ে বর্তমানে বিমানের টিকিট মূল্য অনেক কম। এছাড়াও, তিনি জানান যে বিমান কর্তৃপক্ষ একটি নতুন ক্লাস চালু করেছে যার নাম ‘গাল্ফ ক্লাস’। এই ক্লাসের একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো, যাত্রীরা সর্বনিম্ন মূল্যে ২০ কেজি চেক ব্যাগেজ সুবিধা পাবেন।
অতিরিক্ত ব্যাগেজ সুবিধার প্রসঙ্গে কান্ট্রি ম্যানেজার বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জন্য আরেকটি অতিরিক্ত ব্যাগেজ সুবিধা চালু করেছে। এই সুবিধা অনুযায়ী, ৫ কেজি ব্যাগেজ চার্জ হিসেবে ১৫ কুয়েতি দিনার, ১০ কেজি ব্যাগেজ ২০ কুয়েতি দিনার এবং ২৩ কেজি ব্যাগেজের জন্য ৩৩ কুয়েতি দিনার ধার্য করা হয়েছে।
এছাড়া, তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে স্থানীয় বৈধ লাইসেন্সধারী এবং অনুমোদিত ট্রাভেলস এজেন্সি থেকে বিমানের টিকিট ক্রয়ের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। টিকিট রিফান্ড ইস্যুতে কান্ট্রি ম্যানেজার বলেন, এ ব্যাপারে গ্রাহকের কাছ থেকে অবশ্যই একটি লিখিত আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে এবং তা পর্যালোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।
কান্ট্রি ম্যানেজার ফরহাদ কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সেবার মান উন্নয়নে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহিলা ও শিশু যাত্রী, বিজনেস ক্লাসের যাত্রী, বয়স্ক প্রবাসী এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য আলাদা কাউন্টারের মাধ্যমে তাদের চেক-ইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কুয়েত থেকে বাংলাদেশে যাতায়াতের জন্য প্রবাসীদের প্রায়শই বিমান টিকিটের অতিরিক্ত দাম নিয়ে অভিযোগ থাকে, বিশেষ করে একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) টিকিটের ক্ষেত্রে। দেখা যায় যে, অনেক সময় একমুখী টিকিটের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়, যা দুইমুখী (ডাবল ট্রিপ) টিকিটের দামের চেয়েও বেশি।
এই বিষয়ে এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজার প্রবাসীদের পরামর্শ দিয়েছেন যেন তারা ডাবল ট্রিপ টিকেট কিনে দেশে যাতায়াত করেন। এতে তারা আর্থিক দিক থেকে লাভবান হবেন। তিনি আরও বলেন যে, একমুখী টিকিটের মূল্য সাধারণত চাহিদা এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক কারণের ওপর নির্ভর করে বেশি হয়ে থাকে। তাই টাকা বাঁচাতে চাইলে ডাবল ট্রিপ টিকেট কেনা সবচেয়ে ভালো উপায়।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ বিমানের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ শাহজাহানও উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি বিমান সেবা নিয়ে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার সুমন, সাধারণ সম্পাদক আ হ জুবেদ ও প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক মহসিন পারভেজসহ একটি প্রতিনিধি দল এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আ হ জুবেদ (সম্পাদক, অগ্রদৃষ্টি)











