
বাহরাইনে নতুন ভিসা বন্ধ থাকায় প্রায় সাত বছর ধরে সংকটে রয়েছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। ২০১৮ সাল থেকে নতুন ওয়ার্ক, ভিজিট এবং ফ্যামিলি ভিসা কার্যত বন্ধ থাকায় প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে। যদিও সরকার এবং কূটনৈতিক মহল থেকে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা এখন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যস্থতার ওপর ভরসা করছেন।
ভিসা বন্ধ হওয়ার কারণ
২০১৮ সালে বাহরাইনের মুহাররাক শহরে এক মসজিদের ইমাম, আব্দুল জলিল হামুদ, হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশি মুয়াজ্জিন কামাল উদ্দিনের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর থেকেই বাহরাইন সরকার বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়। এই অলিখিত নিষেধাজ্ঞা শুধু সাধারণ শ্রমিকদেরই নয়, বরং বাহরাইনে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদেরও ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
বাহরাইন বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান আইনুল হকের মতে, প্রায় ৫,০০০ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী দেশটিতে কাজ করছেন। ভিসা বন্ধ থাকার কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মী সংকটে পড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বন্ধও হয়ে গেছে। এটি কেবল শ্রমিকদের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং বাহরাইনের অর্থনীতিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানকেও বাধাগ্রস্ত করছে। বাহরাইন বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ রেমিটেন্স প্রেরণকারী দেশের মধ্যে একটি। তাই ভিসা চালু না হলে বাংলাদেশের রেমিটেন্স প্রবাহও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সমাধানের সম্ভাবনা
দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় প্রবাসীরা এখন নতুন করে আশার আলো দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাহরাইন সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তিনি দেশটির সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘দ্য মেডেল অফ দ্য ফার্স্ট অর্ডার অফ মেরিট’ পেয়েছেন এবং বাহরাইনের রাজপরিবারের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে। ড. ইউনূসের মধ্যস্থতায় যদি নতুন করে আলোচনা শুরু করা যায়, তবে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম মনে করেন, ভিসা চালুর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ড. ইউনূসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মধ্যস্থতা এই জটিল পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে।

আ হ জুবেদ (অগ্রদৃষ্টি, সম্পাদক)











