Menu |||

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড

পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া ওই হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ বৃহস্পতিবার জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত এই ১৬ আসামির মধ্যে রয়েছেন নুসরাতের শিক্ষক- সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, যিনি এই হত্যাকাণ্ডের হুমুকদাতা।

রয়েছেন মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন এবং সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম, যারা হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।

নুসরাতের তিন সহপাঠী কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ও জাবেদ হোসেন, যারা একইসঙ্গে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন; নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর যারা ফের স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পরীক্ষার হলে বসেছিলেন, সেই সঙ্গে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং অধ্যক্ষ সিরাজের কয়েকজন সহযোগী, যারা এই হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাদের সবার সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে আদালতে।

দেশে

বিচারক তার রায়ে বলেছেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ফেনী জেলার অন্যতম বড় বিদ্যাপীঠ। দুই হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী সেখানে পড়ছে। এলাকার শিক্ষা সম্প্রসারণে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলোকজ্জ্বল ভূমিকায় ‘কালিমা লিপ্তকারী’ এ ঘটনা ‘বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

“নারীত্বের মর্যাদা রক্ষায় ভিকটিম নুসরাত জাহান রাফির তেজদ্বীপ্ত আত্মত্যাগ তাকে ইতোমধ্যে অমরত্ব দিয়েছে। তার এ অমরত্ব চিরকালের অনুপ্রেরণা। পাশাপাশি আসামিদের ঔদ্ধত্য কালান্তরে মানবতাকে লজ্জিত করবে নিশ্চয়। বিধায়, দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতম শাস্তিই আসামিদের প্রাপ্য।”

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪ (১)/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে এবং জরিমানার অর্থ আদায় করে নুসরাতের বাবা-মাকে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে।

নুসরাতের পরিবারের সদস্যরার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত আসামিদের সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নুসরাতের ভাই ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

বাদীপক্ষের কৌঁসুলি এম শাহজাহান সাজু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই রায়কে বলেছেন ‘দৃষ্টান্তমূলক’। ৬২ কার্যদিবস শুনানির পর এই রায় দেওয়া হয়েছে, যাকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন’ বলেছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন, রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। নিয়ম অনুযায়ী, এই রায়ের বিরুদ্ধে সাত কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন তারা।

এ মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনক কুমার মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা যেটা প্রত্যাশা করেছিলাম সেটাই হয়েছে। আমরা পেশাদারিত্বের সাথে মেধা দিয়ে কাজ করেছি। প্রত্যেকের পরিবারে নুসরাত আছে, আমরা সে ভাবনা নিয়েই কাজ করেছি।”

দণ্ডিত ১৬ আসামি

অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ্দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আলম, সাইফুর রহমান, মো. জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, মো. আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মো. শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমিন ও মহিউদ্দিন শাকিল

নুসরাত হত্যায় আসামিদের কার কী ভূমিকা

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর গত ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে।

সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পক্ষে নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তার মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনেও সক্রিয় ছিল মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; টানা পাঁচ দিন যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত নেয়।

নুসরাতকে যখন ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল, তখনও তিনি বলছিলেন, তিনি প্রতিবাদ করে যাবেন। প্রতিবাদী এই তরুণীর জন্য প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয় গোটা দেশজুড়ে।

৭ এপ্রিল নুসরাত ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসকদের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দেন, যাতে তিনি অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যান।

 

নুসরাতের পরিবারের সদস্যরার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত আসামিদের সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নুসরাতের ভাই ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

বাদীপক্ষের কৌঁসুলি এম শাহজাহান সাজু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই রায়কে বলেছেন ‘দৃষ্টান্তমূলক’। ৬২ কার্যদিবস শুনানির পর এই রায় দেওয়া হয়েছে, যাকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন’ বলেছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন, রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। নিয়ম অনুযায়ী, এই রায়ের বিরুদ্ধে সাত কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন তারা।

এ মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনক কুমার মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা যেটা প্রত্যাশা করেছিলাম সেটাই হয়েছে। আমরা পেশাদারিত্বের সাথে মেধা দিয়ে কাজ করেছি। প্রত্যেকের পরিবারে নুসরাত আছে, আমরা সে ভাবনা নিয়েই কাজ করেছি।”

দণ্ডিত ১৬ আসামি

অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ্দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আলম, সাইফুর রহমান, মো. জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, মো. আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মো. শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমিন ও মহিউদ্দিন শাকিল

নুসরাত হত্যায় আসামিদের কার কী ভূমিকা

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর গত ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে।

সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পক্ষে নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তার মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনেও সক্রিয় ছিল মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; টানা পাঁচ দিন যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত নেয়।

নুসরাতকে যখন ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল, তখনও তিনি বলছিলেন, তিনি প্রতিবাদ করে যাবেন। প্রতিবাদী এই তরুণীর জন্য প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয় গোটা দেশজুড়ে।

৭ এপ্রিল নুসরাত ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসকদের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দেন, যাতে তিনি অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যান।

 

 

সূত্র, বিডিনিউজ২৪.কম

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কুয়েতে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন

» যুব সংহতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তি

» কফিনবন্দি হয়ে বিয়ের আসরে কনে! ভিডিও ভাইরাল

» যুবককে ঝুলিয়ে ইউপি সদস্যের নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

» অপপ্রচারে কান দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী

» আগুনে ঝাঁপ দিয়ে কোয়ালা বাঁচালেন নারী

» মদ পানের লাইসেন্স আদালতে দিলেন আসিফ

» শীতকালে পায়ের নীচের ত্বক এর যত্ন- ফারহানা মোবিন

» কুয়েত কথন- ৬

» চীনে জিংচু বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস ডে’তে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড

পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া ওই হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ বৃহস্পতিবার জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত এই ১৬ আসামির মধ্যে রয়েছেন নুসরাতের শিক্ষক- সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, যিনি এই হত্যাকাণ্ডের হুমুকদাতা।

রয়েছেন মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন এবং সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম, যারা হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।

নুসরাতের তিন সহপাঠী কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ও জাবেদ হোসেন, যারা একইসঙ্গে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন; নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর যারা ফের স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পরীক্ষার হলে বসেছিলেন, সেই সঙ্গে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং অধ্যক্ষ সিরাজের কয়েকজন সহযোগী, যারা এই হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাদের সবার সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে আদালতে।

দেশে

বিচারক তার রায়ে বলেছেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ফেনী জেলার অন্যতম বড় বিদ্যাপীঠ। দুই হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী সেখানে পড়ছে। এলাকার শিক্ষা সম্প্রসারণে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলোকজ্জ্বল ভূমিকায় ‘কালিমা লিপ্তকারী’ এ ঘটনা ‘বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

“নারীত্বের মর্যাদা রক্ষায় ভিকটিম নুসরাত জাহান রাফির তেজদ্বীপ্ত আত্মত্যাগ তাকে ইতোমধ্যে অমরত্ব দিয়েছে। তার এ অমরত্ব চিরকালের অনুপ্রেরণা। পাশাপাশি আসামিদের ঔদ্ধত্য কালান্তরে মানবতাকে লজ্জিত করবে নিশ্চয়। বিধায়, দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতম শাস্তিই আসামিদের প্রাপ্য।”

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪ (১)/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে এবং জরিমানার অর্থ আদায় করে নুসরাতের বাবা-মাকে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে।

নুসরাতের পরিবারের সদস্যরার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত আসামিদের সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নুসরাতের ভাই ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

বাদীপক্ষের কৌঁসুলি এম শাহজাহান সাজু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই রায়কে বলেছেন ‘দৃষ্টান্তমূলক’। ৬২ কার্যদিবস শুনানির পর এই রায় দেওয়া হয়েছে, যাকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন’ বলেছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন, রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। নিয়ম অনুযায়ী, এই রায়ের বিরুদ্ধে সাত কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন তারা।

এ মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনক কুমার মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা যেটা প্রত্যাশা করেছিলাম সেটাই হয়েছে। আমরা পেশাদারিত্বের সাথে মেধা দিয়ে কাজ করেছি। প্রত্যেকের পরিবারে নুসরাত আছে, আমরা সে ভাবনা নিয়েই কাজ করেছি।”

দণ্ডিত ১৬ আসামি

অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ্দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আলম, সাইফুর রহমান, মো. জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, মো. আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মো. শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমিন ও মহিউদ্দিন শাকিল

নুসরাত হত্যায় আসামিদের কার কী ভূমিকা

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর গত ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে।

সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পক্ষে নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তার মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনেও সক্রিয় ছিল মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; টানা পাঁচ দিন যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত নেয়।

নুসরাতকে যখন ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল, তখনও তিনি বলছিলেন, তিনি প্রতিবাদ করে যাবেন। প্রতিবাদী এই তরুণীর জন্য প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয় গোটা দেশজুড়ে।

৭ এপ্রিল নুসরাত ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসকদের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দেন, যাতে তিনি অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যান।

 

নুসরাতের পরিবারের সদস্যরার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত আসামিদের সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নুসরাতের ভাই ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

বাদীপক্ষের কৌঁসুলি এম শাহজাহান সাজু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই রায়কে বলেছেন ‘দৃষ্টান্তমূলক’। ৬২ কার্যদিবস শুনানির পর এই রায় দেওয়া হয়েছে, যাকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন’ বলেছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন, রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। নিয়ম অনুযায়ী, এই রায়ের বিরুদ্ধে সাত কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন তারা।

এ মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনক কুমার মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা যেটা প্রত্যাশা করেছিলাম সেটাই হয়েছে। আমরা পেশাদারিত্বের সাথে মেধা দিয়ে কাজ করেছি। প্রত্যেকের পরিবারে নুসরাত আছে, আমরা সে ভাবনা নিয়েই কাজ করেছি।”

দণ্ডিত ১৬ আসামি

অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ্দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আলম, সাইফুর রহমান, মো. জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, মো. আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মো. শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমিন ও মহিউদ্দিন শাকিল

নুসরাত হত্যায় আসামিদের কার কী ভূমিকা

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর গত ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে।

সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পক্ষে নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তার মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনেও সক্রিয় ছিল মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; টানা পাঁচ দিন যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত নেয়।

নুসরাতকে যখন ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল, তখনও তিনি বলছিলেন, তিনি প্রতিবাদ করে যাবেন। প্রতিবাদী এই তরুণীর জন্য প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয় গোটা দেশজুড়ে।

৭ এপ্রিল নুসরাত ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসকদের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দেন, যাতে তিনি অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যান।

 

 

সূত্র, বিডিনিউজ২৪.কম

Facebook Comments


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



প্রবাসীদের সেবায় ”প্রবাসীর ডাক্তার” শুধুমাত্র বাংলাটিভিতে

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার ( রাত ১১:৩৭ )
  • ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • ২৪শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
  • ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )

সর্বশেষ খবর



Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Bangladesh Office

Director. Rumi Begum
Adviser. Advocate Koyes Ahmed
Desk Editor (Dhaka) Saiyedul Islam
44, Probal Housing (4th floor), Ring Road, Mohammadpur,
Dhaka-1207. Bangladesh
Contact: +8801733966556 / +8801920733632

Email Address

agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Licence No.

MC- 00158/07      MC- 00032/13

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com