
আজ ৩১ আগস্ট, ২০১৮ সালের এই দিনে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের তাতী পাড়া গলিপথে নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন কুয়েত প্রবাসী সংগঠক ও লেখক এস এম আব্দুল আহাদ। দেখতে দেখতে সাত বছর পেরিয়ে গেল, কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের শোক আজও তাজা। একজন লেখক, সংগঠক এবং প্রিয় মানুষ হিসেবে তাঁর চলে যাওয়া সিলেটের সাংস্কৃতিক এবং প্রবাসী অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
এস এম আব্দুল আহাদ ছিলেন একজন স্বপ্নচারী মানুষ। কুয়েতে প্রবাস জীবন কাটানোর পাশাপাশি তিনি সাহিত্য ও সমাজের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর লেখনি ছিল প্রখর এবং সত্যনিষ্ঠ। প্রবাসে থেকেও তিনি দেশের জন্য কাজ করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সমাজকে আরও উন্নত করার স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণ শুধুমাত্র একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি একটি সমাজের ক্ষতি, যেখানে একজন প্রগতিশীল চিন্তাবিদকে অকালে হারিয়ে যেতে হলো।
তাঁর হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলা হয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘ সাত বছরেও সেই মামলার কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কেবল একটি হত্যাকাণ্ডকেই চাপা দেয় না, এটি সমাজে অন্যায় এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তির পথ খুলে দেয়। যখন কোনো অপরাধের বিচার হয় না, তখন তা কেবল ভুক্তভোগী পরিবারকেই হতাশ করে না, বরং সমাজের সকল মানুষকে হতাশ করে। এটি প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষের জীবন কতটা মূল্যহীন।
এস এম আব্দুল আহাদের মতো একজন গুণী মানুষকে হারিয়ে আমরা কেবল একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে হারালাম না, আমরা একটি সমাজের বিবেককে হারালাম। তাঁর মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, একটি দেশে একজন প্রগতিশীল মানুষ কতটা অনিরাপদ।
আজ তাঁর স্মরণে আমরা কেবল তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি না, আমরা আশা করি যে তাঁর জীবন এবং কাজ আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক, এবং কোনো এস এম আব্দুল আহাদকে যেন আর অকালে চলে যেতে না হয়।
আমরা যারা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম, তাদের জন্য এই শোক ভোলা কঠিন। তাঁর হাসি, তাঁর কথা, এবং তাঁর কাজ আজও আমাদের মনে অম্লান। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমীন।

আ হ জুবেদ (সম্পাদক,অগ্রদৃষ্টি)











