
গেট থেকে উঁকি মেরে স্কুল প্রাঙ্গণে এক মা খুঁজছেন তার শিশুকে,মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা: ঝরে গেল অনেক ‘কলি’
সোমবার (২১ জুলাই) ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয় এবং ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থী রয়েছে। এটি যেন “ফুল ফোটার আগেই কলিতে ঝরে যাওয়া”র এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি।
ছবি: দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা (উদাহরণস্বরূপ ছবি, বাস্তব চিত্র নয়)
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সাথে সাথেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে অনেকে মারা যান। ঘটনাস্থলের বিভীষিকাময় দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে অনেকে শিউরে উঠছেন। ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল মরদেহ, কেউ অগ্নিদগ্ধ দেহ নিয়ে ছুটছেন হাসপাতালের দিকে, আবার কেউ প্রিয়জনের খোঁজে পাগলের মতো এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছেন। এটি সত্যিই এক অমানবিক দৃশ্য।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল এক মায়ের আকুতি। স্কুল প্রাঙ্গণে উঁকি মেরে তিনি খুঁজছিলেন তার ১০ বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়া সন্তানকে। সন্তানকে হারানোর আতঙ্কে তার চোখে-মুখে ছিল চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়। এমন আরও অনেক বাবা-মা, স্বজন তাদের প্রিয়জনদের খোঁজ নিতে ঘটনাস্থলে ভিড় করেছিলেন। তাদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল।
এই দুর্ঘটনা কেবল টি প্রাণের বিনাশ নয়, এটি অসংখ্য পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের কারণ। যে শিশুরা সবেমাত্র জীবনকে চিনতে শুরু করেছিল, যাদের ভবিষ্যৎ ছিল উজ্জ্বল, নির্মমভাবে তাদের জীবনপ্রদীপ নিভে গেল। যারা আহত হয়েছেন, তাদের সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়াও এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এবং এর শোক সহজে ভুলবার নয়।
আ হ জুবেদ (সম্পাদক, অগ্রদৃষ্টি)











