বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রবাসের মাটিতে এক টুকরো বাংলাদেশ আর ফুটবলের উন্মাদনায় মেতে উঠেছিল কুয়েতের জাহরা ফুটবল মাঠ। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইউথ ফেস্টিভ্যাল ও বিজয় দিবস কাপ ২০২৫’-এর ফাইনালে আবাহনী ক্লাব কুয়েতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে জে.এম স্পোর্টিং ক্লাব কুয়েত। শুক্রবার উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের সমাপনী দিনে কুয়েতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে মাঠ যেন এক মিনি স্টেডিয়ামে পরিণত হয়।
টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও হাই-ভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আবাহনী ক্লাব কুয়েত ও জে.এম স্পোর্টিং ক্লাব কুয়েত। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে দর্শকদের রোমাঞ্চিত করলেও প্রথমার্ধে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। স্নায়ুচাপের এই লড়াইয়ে জে.এম স্পোর্টিং ক্লাব ৩-৫ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে শিরোপা উল্লাসে মেতে ওঠে। এর আগে দিনের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলার আলো স্পোর্টিং ক্লাব বনাম বৃহত্তর নোয়াখালী স্পোর্টিং ক্লাব কুয়েত মুখোমুখি হয়। সেই ম্যাচটিও নির্ধারিত সময়ে ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে জয় পায় বাংলার আলো স্পোর্টিং ক্লাব।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন করেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন। বাংলাদেশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কুয়েতের সভাপতি মোরশেদ আলম ভুইয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. কোরবান আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা,
বাংলাদেশ ফুটবল এসোসিয়েশন কুয়েতের উপদেষ্টা প্রকৌশলী মোঃ ফরিদ উদ্দিন,বিমল কান্তি রায়, মুজাহার আলী সানা, হুমায়ুন কবির আলী, নাসির উদ্দিন খোকন, প্রবাসী রাজনীতিবিদ মোঃ মাইনুদ্দিন মাইন,
তারেক হাসান, টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির প্রধান সোহেল রানা ও বাংলাদেশ ফ্যামিলি ফোরাম কুয়েতের সভাপতি আব্দুল হাই ভূঁইয়া সহ কুয়েতস্থ বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
পুরস্কার বিতরণী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনে শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এমন আয়োজন কেবল বিনোদন নয়, বরং প্রবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য সৃষ্টিতে এবং সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার দায়িত্ব আপনাদের সবার।” প্রবাসীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আপনারা কুয়েতের স্থানীয় আইন-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলুন। আপনাদের সততা ও পরিশ্রমই বিদেশের মাটিতে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। মনে রাখবেন, একেকজন প্রবাসী মানেই একেকজন বাংলাদেশের দূত।”
খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। কনকনে শীত উপেক্ষা করে কুয়েতের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির সমাগম প্রমাণ করেছে, প্রবাসের মাটিতেও ফুটবলের প্রতি বাঙালির আবেগ কতটা গভীর। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামীতেও প্রবাসীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে এমন বড় বড় টুর্নামেন্ট অব্যাহত রাখা হবে।











