স্পোর্টস ডেস্ক : গতকাল শনিবার (নভেম্বর ১১, ২০১৭) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আয়রনম্যান মালয়েশিয়া, লংকাওয়ে ২০১৭। এ আসরে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন মুহাম্মদ সামসুজ্জামান আরাফাত। বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং এই ইভেন্টে বিভিন্ন দেশের মোট ১০১১ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন।
ইভেন্টটি শেষ করতে সময় বেঁধে দেয়া হয় ১৭ ঘণ্টা, যার শুরুটা হয় ৩.৮ কিলোমিটার সাঁতারের মধ্য দিয়ে, সাঁতার শেষ করার সাথে সাথেই প্রতিটি প্রতিযোগীকে সাইকেল চালাতে হয় ১৮০ কিলোমিটার এবং শেষটা করতে হয় একটি ফুল ম্যারাথন (৪২.২ কিলোমিটার) মাধ্যমে। আর এ সম্পূর্ণ পথটি আরাফাত পাড়ি দিয়েছেন ১২:৪৩:২৮ ঘণ্টায়।
আরাফাত বিগত কয়েকবছরে নিজেকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত করেছেন একজন সফল আয়রনম্যান হবার জন্য। অংশগ্রহণ করেছিলেন দেশ বিদেশের বিভিন্ন ম্যারাথন প্রতিযোগিতায়, সাঁতার কেটে বাংলা চ্যানেল (টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন) পাড়ি দিয়েছেন তিন বার, বিগত মাসে দেশে অনুষ্ঠিত মিনি ট্রাথলনে সে বাংলাদেশীদের মধ্যে হয়েছিলেন প্রথম। এর আগে সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে “দ্যা গ্রেট বাংলাদেশ রান” এর ব্যানারে দৌড়েছেন টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া মোট ১০০৪ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র অর্জন।
শুধু এখানেই ক্ষান্ত হননি আরাফাত, মালয়েশিয়ার আবহাওয়ায় নিজেকে প্রস্তুত করতে ও সাইকেল এর জড়তা কাটাতে মালয়শিয়াতে ও দিন রাত অনুশীলন করেছেন। গুরুতর ইনজুরি না থাকলেও ডান কাঁধে কিছুটা ব্যথা নিয়েই ইভেন্টটি শুরু করে সফলতার সাথে শেষ করেছেন।
ইতিপূর্বে চার জন অনাবাসী বাংলাদেশী (হাফ এবং ফুল) আয়রনম্যান ইভেন্টটি শেষ করলেও তারা দেশের বাহিরে থাকায় ততটা নজরে না আসলেও আরাফাতের এই ফু্ল আয়রনম্যান ইভেন্টটি তার ভক্ত ও দেশের যুব সমাজেকে উদ্বুদ্ধ করতে সাহায্য করবে। দেশের যুব সমাজকে এমন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণে আগ্রহী করে গড়ে তোলাই আরাফাতের লক্ষ্য।
বিশ্ব ময়দানে বাংলাদেশের যে পতাকা তুলে ধরলেন আরাফাত তা আমাদের জন্য গর্বের, সম্মানের ও আনন্দের।
উল্লেখ্য যে, গত নভেম্বর ০২, ২০১৭ তারিখে আরাফাতের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর হাতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দেন পিকেএসএফ’র চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ এবং পরবর্তীতে ৪ঠা নভেম্বর তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। আগামী ১৫ নভেম্বর আরাফাত দেশে ফিরবেন।











