আহত ১৭২ জনের মধ্যে অন্তত ১৬ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে শনিবার জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অবশ্য স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি বলছে, ১৫৬ জনের আঘাত গুরুতর। তাদের চিকিৎসা চলছে।
দুবাই থেকে ১৯০ জন আরোহী নিয়ে শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে কেরালার কালিকট (কোঝিকোড়) বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ফ্লাইট আইএক্স ১৩৪৪ দুর্ঘটনায় পড়ে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে অবতরণের সময় সেটি রানওয়েতে ছিটকে পড়ে দুই টুকরো হয়ে যায়।
তবে শেষ পর্যন্ত আগুন না ধরায় উড়োজাহাজটির বেশিরভাগ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হায়েছে। আহতদের কালিকট ও মালাপুরামের কয়েকটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। শনিবার দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে দুবাইয়ে আটকা পড়া ভারতীয়দের নিয়ে ফিরছিল বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি। সেটিতে ১০ জন শিশুসহ মোট ১৮৪ জন যাত্রী, দুইজন পাইলট ও চারজন কেবিন ক্রু ছিলেন বলে জানায় ভারতের সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।
সিভিল অ্যাভিয়েশনের মহাপরিচালক শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রবল বৃষ্টির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা।
টেলিভিশনের ভিডিওতে দেখা যায়, উড়োজাহাজের দুটি অংশ দুই দিকে পড়ে আছে, চারদিকে ছড়িয়ে আছে টুকরো অংশ। উদ্ধারকর্মীরা প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আরোহীদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরেডার টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, বিমানবন্দরে নামার আগে পাইলট আকাশে কয়েক দফা চক্কর দেন এবং রানওয়েতে নামার জন্য দুই দফা চেষ্টা করেন।
ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বলেছেন, চাকা পিছলে উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে বেরিয়ে যায় এবং ৩৫ ফুট ঢালু জমি পেরিয়ে বিমানের নাক মাটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজে আগুন না ধরায় আরও অনেক প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তবে দুই পাইলটের কারো প্রাণই রক্ষা পায়নি।
এ দুর্ঘটনায় ‘গভীর শোক’ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।











