
আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজই নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। নিয়ত যদি সৎ হয়, তবে আল্লাহ আমাদের সেই সৎ কাজের ইচ্ছা পূরণ করে দেন, এমনকি যদি কাজটি আমরা ভুলে যাই তবুও। এটি এক গভীর আধ্যাত্মিক সত্য, যা আমাদের সৎ কাজ করার প্রেরণা জোগায়। সম্প্রতি এক মুসল্লীর অভিজ্ঞতা এই সত্যকেই যেন আবারও আমাদের সামনে তুলে ধরলো।
ওই মুসল্লী প্রায়ই তার বাসার কাছের একটি মসজিদে নামাজ আদায় করেন। সেখানে তিনি মসজিদের ইমাম সাহেবকে প্রতিদিন একটি কাজ করতে দেখেন, যা তার মনে গভীর ছাপ ফেলে। ইমাম সাহেব মসজিদে প্রবেশ করার পর চারপাশে তাকিয়ে দেখেন কোথাও কোনো আবর্জনা বা এলোমেলো জিনিস পড়ে আছে কিনা, যা তিনি নিজ হাতে পরিষ্কার বা ঠিক করে রাখতে পারেন। ইমামের এই নীরব সেবা মুসল্লীকে খুব মুগ্ধ করে। তিনি মনে মনে ভাবতেন, যদি তিনিও এমন একটি সৎ কাজ করতে পারতেন, তাহলে তারও খুব ভালো লাগতো।
একদিন নামাজ শেষে ইমাম সাহেব অন্য এক মুসল্লীর সঙ্গে গল্পে মগ্ন হয়ে গেলেন। ওই মুসল্লী ভাবলেন, আজ হয়তো ইমাম সাহেব তার প্রতিদিনের কাজটি ভুলে যাবেন। কিন্তু তার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। গল্প শেষ করেই ইমাম সাহেব প্রতিদিনের মতো তার কাজটি নিখুঁতভাবে পালন করলেন। এতে মুসল্লীর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হলো যে, সৎ কাজ করতে থাকলে তা কখনো থেমে থাকে না, এমনকি যদি কাজটি কেউ ভুলে যায়, তবুও আল্লাহ তার ইশারায় তা সম্পন্ন করে দেন।
এই ঘটনার কিছুদিন পর, ওই মুসল্লী নিজে নামাজ আদায় করার সময় তার সিজদার স্থানে একটি সুতোর টুকরো দেখতে পেলেন। তিনি মনে মনে ঠিক করলেন, নামাজ শেষে তিনি সেটি তুলে আবর্জনার বিনে ফেলবেন। কিন্তু নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর তার সেই প্রতিশ্রুতির কথা একেবারেই মনে ছিল না। তিনি ভীষণ আফসোস করতে লাগলেন।
হঠাৎ কী কারণে যেন তিনি কপালে হাত দিলেন এবং অবাক হয়ে দেখলেন, সেই সুতোর টুকরোটি তার কপালে লেগে আছে। এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং উপলব্ধি করলেন, সৎ কাজের প্রতি তার আন্তরিক ইচ্ছা ছিল বলেই আল্লাহ তার অজ্ঞাতেও কাজটি সম্পন্ন করে দিয়েছেন।
এই ঘটনা আমাদের শেখায় যে, নিয়তের পবিত্রতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যখন আমাদের নিয়ত সৎ হয়, তখন আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, এমনকি আমাদের অজান্তে করা কাজও আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হয়। এই উপলব্ধি আমাদের মনে সৎ কাজ করার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং আমাদের আত্মাকে প্রশান্ত করে।
মুসল্লী ভূমিকায়, আ হ জুবেদ

আ হ জুবেদ (সম্পাদক- অগ্রদৃষ্টি)











