
কুয়েত সরকার কর্তৃক কর্মী নিয়োগে ‘ভিসা ফ্রি’ ঘোষণা এবং নিয়োগকর্তাদের শ্রমিক প্রতি ১২০ কুয়েতি দিনার খরচ বহনের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে যেতে একজন শ্রমিককে গুণতে হচ্ছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এ অর্থ আদায় হচ্ছে সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অবৈধ পথে, যেখানে দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী এবং তথাকথিত দেশি-বিদেশি এজেন্টরাই মূল ভূমিকা পালন করছে। এই আর্থিক লেনদেনের কোনো রসিদ বা হিসাব থাকছে না, যা পুরো প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ করে তুলেছে।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার সুমন এই ভয়াবহ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ‘তিন দিনারের ভিসা’ নামে পরিচিত এই ভিসার জন্য শ্রমিকরা তাঁদের জীবনের সঞ্চয়, বসতভিটা বিক্রি কিংবা উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে অর্থ সংগ্রহ করছেন। অথচ সরকারিভাবে ঋণ নিতে গেলে অসংখ্য কাগজপত্র ও আত্মীয়স্বজনের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। এই অব্যবস্থাপনা এমন প্রশ্ন তৈরি করছে যে, যেখানে প্রকৃত খরচ ২ লাখ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়, সেখানে কেন ৫-১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
মঈন উদ্দিন সরকার সুমন এই পরিস্থিতিকে কেবল ‘ব্যবসা’ হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, মানুষ যখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ছাড়ে, তখন এটি কেবল ব্যবসা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও মানবিক অধিকার সংক্রান্ত একটি গুরুতর বিষয়। এই বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে প্রবাসীদের প্রতি অবিচার চলতেই থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সুমনের প্রস্তাবনা:
কুয়েতে নিয়োগ পাওয়া নতুন শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মঈন উদ্দিন সরকার সুমনঃ
* ন্যূনতম তিন বছরের কাজের চুক্তি: শ্রমিকদের কাজের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ন্যূনতম তিন বছরের কাজের চুক্তি বাধ্যতামূলক করা।
* নির্ধারিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা: প্রতি মাসের নির্ধারিত বেতন, বাসা এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়োগকারী কোম্পানির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা।
* ক্ষতিপূরণের বিধান: যদি কোনো কারণে দুই বছরের আগে শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, তবে নিয়োগদাতা বা এজেন্সিকে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা।
এছাড়াও, তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসকে এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানোর এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মঈন উদ্দিন সরকার সুমনের মতে, প্রবাসীরা কেবল রেমিট্যান্সের কারিগর নন, তাঁরা জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি, এবং তাঁদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়।
এই পরিস্থিতি নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্দশা আরও বাড়তে পারে এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।











