রাজনীতির অংকের হিসেব মেলাতে গিয়ে বাঘা বাঘা বিশ্লেষকরা যখন খেই হারিয়ে ফেলেন, তখন কোনো কোনো অভিজ্ঞ মানুষের দূরদর্শী ভাবনায় লুকিয়ে থাকে আগামীর নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশের চায়ের টেবিলে যখন বিতর্কের ঝড় বইছিল, ঠিক তখন সুদূর কুয়েত থেকে একজন প্রবীণ রাজনীতিকের করা ভবিষ্যদ্বাণী আজ শতভাগ সফলতায় রূপ নিয়েছে। আমি বলছি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান ও কুয়েত বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আখতারুজ্জামান শামস এর কথা। আজ যখন নির্বাচনী ফলাফলের চূড়ান্ত খতিয়ান হাতে এলো, তখন বারবার মনে পড়ছে তার সেই অটল আত্মবিশ্বাসের কথা।
নির্বাচনের ঠিক দিন দশেক আগের কথা। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে মাঠের প্রকৃত অবস্থা এবং প্রবাসী ভোটারদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে যখন বিদেশের প্রভাবশালী প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করি, তখনই ফোন দিয়েছিলাম প্রবীণ এই নেতাকে। পোস্টাল ব্যালট, নির্বাচনী প্রচারণা আর বিদেশের মাটিতে বসে দেশের রাজনীতির সুলুকসন্ধান নিয়ে আলাপকালে আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, “আখতার ভাই, ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কতোটি আসন জুটতে পারে বলে মনে করছেন?” কোনো দ্বিধা বা দীর্ঘ ভাবনা ছাড়াই তিনি যেন এক মুহূর্তেই উত্তরটি প্রস্তুত রেখেছিলেন। মৃদু হেসে বললেন, “কোনো সন্দেহ নেই, বিএনপি এবার ২০০ থেকে ২১২টি আসন পাবে।”
একজন সাংবাদিকের সহজাত সন্দেহপ্রবণ মন নিয়ে সেদিন আমি তার এই তথ্যের সঙ্গে একমত হতে পারিনি। আমি উল্টো যুক্তি দিয়ে বলেছিলাম, জয় পেলেও বিএনপিকে কঠিন অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে এবং জামায়াত জোট সম্ভবত দেশের ইতিহাসে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে বড় ব্যবধানে সংসদে যাবে। কিন্তু আমার সংশয়কে উড়িয়ে দিয়ে আখতারুজ্জামান শামস সেদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “আমি যা বললাম, আপনি শুধু মিলিয়ে দেখবেন। অপেক্ষা করুন।” আজ সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে এবং দেখা যাচ্ছে তার কথা যেন বিধাতার তকদিরের মতোই ফলেছে। বিএনপি জোট ঠিক ২১২টি আসন লাভ করেছে, আর জামায়াত জোট ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসনে বসেছে।
প্রবাসের মাটিতে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতির নাড়ি নক্ষত্র চেনা এই সিনিয়ির সিটিজেনের এমন নিখুঁত দূরদৃষ্টি সত্যিই বিস্ময়কর।
যেখানে বড় বড় জরিপ সংস্থাগুলো আসনের অংকের মারপ্যাঁচে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছিল, সেখানে কুয়েতের মরুর উত্তাপে বসে আখতারুজ্জামান শামস দেশের জনমানুষের পালস বা নাড়ি বুঝতে পেরেছিলেন নিখুঁতভাবে। তার এই আগাম ভাবনার জয়জয়কার এখন কুয়েতের প্রতিটি প্রবাসী আড্ডায়। প্রবাসীদের মধ্যে অনেকে বলছেন, আখতারুজ্জামান শামস রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগই তাকে এমন আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করেছে। দিনশেষে দেখা গেলো, সংবাদকর্মীর চুলচেরা বিশ্লেষণের চেয়েও আআখতারুজ্জামান শামস দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাই শতভাগ সফল হলো।

আ হ জুবেদ (সম্পাদক অগ্রদৃষ্টি)











