ডেস্ক রিপোর্ট- প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক মিসাইল ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আরব বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। রোববার এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে আরব দেশগুলো ইরানের এই কর্মকাণ্ডকে “অযৌক্তিক আগ্রাসন” হিসেবে অভিহিত করেছে এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাল্টা আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করেছে।
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করার প্রেক্ষাপটে এই সভার আয়োজন করা হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে আয়োজিত এই বৈঠকে আরব লিগের পক্ষ থেকে একটি সংহতিমূলক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানের এই পদক্ষেপগুলো স্পষ্টতই সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদের পরিপন্থী।”
আত্মরক্ষার অধিকার ও যৌথ আরব বাহিনীর প্রস্তাব
বৈঠকে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় এবং বর্তমান হুমকিগুলো মোকাবিলায় “যৌথ আরব বাহিনী” (Joint Arab Force) গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ইরানের এই হামলাগুলো প্রমাণ করে যে আরব দেশগুলোর সুরক্ষায় একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি। যদিও ২০১৫ সালে এ ধরনের একটি বাহিনী গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, তবে নানা রাজনৈতিক কারণে তা এতদিন বাস্তবায়িত হয়নি।
হরমুজ প্রণালী ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা
আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মতো কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। ইরান এই হামলাগুলোকে তাদের আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে দাবি করলেও আরব দেশগুলো তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালিয়ে ইরান নিজেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে।
লেবানন ও হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গ
বৈঠকে লেবানন সরকারের হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানানো হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একমত হন যে, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর অননুমোদিত তৎপরতা এই অস্থিতিশীল অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং জর্ডানের মতো দেশগুলোর বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় চালানো এই হামলাগুলো ক্ষমার অযোগ্য। আরব বিশ্ব এখন একযোগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এই আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।











