বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা খানম পুতুলের জীবন আমূল বদলে যায় ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তরুণ ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সাথে পরিণয়সূত্রে। ঘরোয়া বধূ থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অদম্য এক নেত্রী। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অকাল প্রয়াণের পর এক কঠিন সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র হাল ধরেন তিনি।
দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার আপসহীন ভূমিকা তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে দেয়। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। তার শাসনামলে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসারের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনবার দেশের নেতৃত্ব দেওয়া এই মহীয়সী নারী তার জীবনের শেষ দিনগুলোতে অসুস্থতার সাথে লড়াই করলেও কখনো আদর্শের সাথে আপস করেননি।
আজ তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা। বেগম জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা। তাদের শোকবার্তায় খালেদা জিয়াকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির এক প্রভাবশালী ও সাহসী নারী নেতৃত্ব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই খালেদাজিয়ার সম্মানে দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং আগামীকাল এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। আগামীকাল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হবে, যেখানে লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই চিরবিদায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করল যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
আ হ জুবেদ
সম্পাদক, অগ্রদৃষ্টি











