বিশেষ প্রতিনিধি– মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশি মূলধারার গণমাধ্যমকর্মী ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টদের নিয়ে একটি বিশেষ ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করেছে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। সভায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা, দেশে আটকে পড়া রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় এই সভায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের নেতৃবৃন্দ ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা যুক্ত ছিলেন।
সভার শুরুতে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও মিসাইল আক্রমণের মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাইরেন বা সতর্কবার্তা বাজলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিচলিত না হয়ে ধৈর্য ও সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কুয়েত সরকারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। গত ২ মার্চ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে টেলিফোন আলাপে কুয়েতের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। জরুরি সহায়তার জন্য দূতাবাস ইতিধ্যেই তিনটি ২৪ ঘণ্টা কার্যকর হটলাইন নম্বর এবং ইমেইল সেবা চালু করেছে। যারা ফ্লাইট জটিলতায় আটকা পড়েছেন, তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে দূতাবাস ও এয়ারলাইন্সগুলোর সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ নির্দেশনায় রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে এবং সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নগদ অর্থ, সিভিল আইডি, হেলথ কার্ড এবং সচল মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক সবসময় সাথে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুদ্ধকালীন কোনো দৃশ্য, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ভিডিও বা ছবি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা কুয়েতি আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই গুজব এড়িয়ে চলে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও কুয়েত সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার সুমন সঠিক তথ্যের উৎস জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত স্থানীয় গণমাধ্যম ও দূতাবাসের অফিশিয়াল মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক আ হ জুবেদ দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের আকামা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করলে রাষ্ট্রদূত অভয় দিয়ে জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছুটিতে থাকা প্রবাসীদের ছুটি ও আকামার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে, ফলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। সভায় অন্যদের মধ্যে যুক্ত ছিলেন প্রেসক্লাব কুয়েতের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল-আমিন রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক রিপন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাসরিন আক্তার মৌসুমি এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও নাসের মহিউদ্দিন। কুয়েতের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সভা সমাপ্ত করা হয়।











