ডেস্ক রিপোর্ট- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের রেশ সরাসরি আছড়ে পড়েছে কুয়েতের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে। বর্তমানে এই অঞ্চলটি যে চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার ফলে কুয়েতের আকাশপথ এবং পর্যটন ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই কুয়েত আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে, যার ফলে হাজারো যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। বিশেষ করে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার খবর এই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পর্যটন অর্থনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা ১১ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এর প্রভাব কুয়েতেও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের কুয়েত ভ্রমণের ওপর সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং কুয়েত থেকে বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যেই তাদের নাগরিকদের কুয়েত ত্যাগের জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে। কুয়েতের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ড্রোন ও মিসাইল রুখে দিলেও, নিরাপত্তার প্রশ্নে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েই গেছে। আকাশপথের এই অস্থিরতা এবং সামরিক সতর্কতার কারণে সাধারণ ভ্রমণকারীরা এখন কুয়েত বা এই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত এড়িয়ে চলছেন।
সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে কুয়েতের ভ্রমণ খাত দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে, যা কাটিয়ে উঠতে যুদ্ধ পরবর্তী সময়েও অনেকটা সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।











