Menu |||

স্মৃতির মেঠোপথ “সাথী আপু টকি, আই কই” ফারহানা মোবিন

IMG_20180120_232123

 

” সাথী আপু টকি, আই কই , আই কে খুজো. ….” ছোট্ট বেলায় এই কথাগুলো আমি বলতাম আমার মামাতো বোন কে । তখন ঠিক মতো কথা বলতে শিখিনি ।
টুকি শব্দ টা বলতে পারতাম না । বলতাম টকি ।

আমি বলতে পারতাম না । বলতাম আই ।

সবুজ রং এর এই পাতাটার নাম মনে নেই । নানার বাড়ির চারপাশে এই পাতাগুলো ঘাসের মধ্যে মিশে থাকতো ।আমরা দল বেঁধে অনেক ছেলে মেয়ে একসাথে খেলতাম । কেউ কোথাও আঘাত পেলে বা কেটে গেলে , এই সবুজ পাতা গুলো চিবিয়ে , তার সাথে থুথু লাগিয়ে , কাটা জায়গায় লাগাতাম ।

তখন স্কুলে ভর্তি হয়নি । কি যে সব হাসির কাজ করতাম । এই সবুজ পাতা গুলো মাঝে মাঝে চিবিয়ে
খেতাম । টক স্বাদের পাতা।

নাম টা কিছুতেই মেনে মনে করতে পারছি না ।
চোখ বন্ধ করলেই , আমি সেই পাতা গুলো , এখনও দেখতে পাই ।

সেই ছোট্ট আমি টা আজ আছি , আমার সাথী আপু আছে , কিন্তু হারিয়ে গেছে টকি বলার বয়স ।

আমি আর আমার মামাতো বোন নানার বাসার কাঁঠাল গাছ তলায় খেলতাম , আমরা দুজনে কাঁঠাল গাছের পাতা কুড়িয়ে, জামার পকেটে রাখতাম । আর বলতাম , আমাদের পকেট ভর্তি টাকা । কাঁঠাল গাছ এর পাশে একটা বেল গাছ ছিল । গাছ টা এখনও আছে । সবাই
বলতো , সেই গাছে নাকি বৃদ্ধ এক জ্বীন থাকে । সেই জ্বীন নাকি মানুষের উপকার করে ।
আমার নানার সাথে সেই জ্বীন নাকি মসজিদে নামাজ পড়তে যেতো ।

তখন রাজশাহীর রায়পাড়া ছিল গাছপালা , ঝোপ জঙ্গলে ভরা । অদ্ভুত সুন্দর কাশ ফুল ফুটতো । পাট গাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতো ।

আমি সাথী আপুর সাথে আমার আরেক নানীর
( নানীর বোন ) বাসায়
যেতাম । নাসরিন খালা খুব সুন্দর সুন্দর গল্প বলতো ।

ভোর বেলা আমি আর সাথী আপু মামার বাসার ছাদে , বাটা বিস্কুট আর চা খেতাম । গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে বানানো চা । অদ্ভুত সুন্দর সেই স্বাদ ।

পঁচিশ পয়সা দিয়ে পাওয়া যেত একটি বাটা বিস্কুট । কি যে সুন্দর আর স্বপ্নমাখা সেই দিন গুলো । বাটা বিস্কুট এখনও পাওয়া যায় । তবে পঁচিশ পয়সার সেই বাটা বিস্কুটের আজ বড়ই অভাব ।

শীতের সকালে, আকাশে উড়ে যেত শীতের অতিথি পাখি , ধবধবে সাদা বক । আমি আর আপু মুগ্ধ চোখে দেখতাম সেই দৃশ্য ।

বিকেলে আমি আর সাথী আপু মসজিদে পড়তে
যেতাম । অনেক ছোট ছোট ছেলে মেয়ে একসাথে কায়দা বই পড়তাম । মসজিদ থেকে ফেরার পথে মার্বেল
কিনতাম । বিভিন্ন রং এর মার্বেল ।

মামী অনেক মজার মজার খাবার রান্না করতো । আমি আর আপু ছাদের উপর থেকে দেখতাম , বেগুন টমেটো চাষ করার কাজ । মাঝে মাঝে লিচু বাগান এর মাচার উপর আমরা দুজন বসে থাকতাম ।

সন্ধ্যায় মাগরীব এর আযান ভেসে আসতো আমার নানার কবরস্থানের দিক থেকে । তখন মনটা উদাস হয়ে যেত ।

আমার নানা নানী মিশে আছেন রায়পাড়ার সেই কবরস্থানের মাটিতে । আমার নানা মরহুম আলহাজ্ব ডাঃ জয়নাল আবেদীন ছিলেন ভীষণ মহত আর হৃদয়বান চিকিৎসক ।

তিনি নিবেদিত প্রাণ হয়ে অগণিত মানুষের উপকার করেছেন । তাঁর মহত্ত্বের জন্য তিনি রায়পাড়ার বিখ্যাত চিকিৎসক ছিলেন ।

নানাভাই আমি যেন তোমার মতো মহত হতে পারি ।

চোখ বন্ধ করলেই আজো দেখতে পাই,
আমি আর সাথী আপু , আমরা হাত ধরে ছুটে চলেছি , হলুদ সরিষা ক্ষেতের মধ্যে ।
অদ্ভুত সুন্দর সেই সরিষার
ফুল ।

তখন মোবাইল ফোন ছিল
না । তাই হলুদ সরিষা ক্ষেতের ছবি তুলতে পারিনি।
ছবি গুলো ক্যামেরা তে নেয় ,
ছবি গুলো থেকে গেছে বুকের মধ্যখানে ।

আর থাকবে অনন্তকাল ।

আজ
আবারো খুব বলতে ইচ্ছে করছে ,
” সাথী আপু টকি , আই কই, আই কে খুজো…….,
সাথী আপু টকি……..। ”

ফারহানা মোবিন – 

লেখক ও চিকিৎসক

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ডাক্তার বিয়ে করবেন যে কারণে!

» তিব্বতে ধর্মীয় আশ্রমে অগ্নিকাণ্ড

» ক্লাসে শিক্ষার্থীর বদলে ছাগল!

» ‘প্রেস কাউন্সিল পুরস্কার-২০১৮’ পেলেন ৫ জন

» শেষ টি-টোয়েন্টিতেও টাইগারদের নতি স্বীকার

» নাজমুল রনির নির্দেশনায় সজল-তানজিন তিশা

» তুমি আমার সময় কেন এলে না: ঋষি

» জিও ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেত্রী জয়া

» রাঙ্গুনিয়ার সাবেক এমপি ইউসুফ আর নেই

» যুক্তরাজ্যের কার্গো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার



logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

স্মৃতির মেঠোপথ “সাথী আপু টকি, আই কই” ফারহানা মোবিন

IMG_20180120_232123

 

” সাথী আপু টকি, আই কই , আই কে খুজো. ….” ছোট্ট বেলায় এই কথাগুলো আমি বলতাম আমার মামাতো বোন কে । তখন ঠিক মতো কথা বলতে শিখিনি ।
টুকি শব্দ টা বলতে পারতাম না । বলতাম টকি ।

আমি বলতে পারতাম না । বলতাম আই ।

সবুজ রং এর এই পাতাটার নাম মনে নেই । নানার বাড়ির চারপাশে এই পাতাগুলো ঘাসের মধ্যে মিশে থাকতো ।আমরা দল বেঁধে অনেক ছেলে মেয়ে একসাথে খেলতাম । কেউ কোথাও আঘাত পেলে বা কেটে গেলে , এই সবুজ পাতা গুলো চিবিয়ে , তার সাথে থুথু লাগিয়ে , কাটা জায়গায় লাগাতাম ।

তখন স্কুলে ভর্তি হয়নি । কি যে সব হাসির কাজ করতাম । এই সবুজ পাতা গুলো মাঝে মাঝে চিবিয়ে
খেতাম । টক স্বাদের পাতা।

নাম টা কিছুতেই মেনে মনে করতে পারছি না ।
চোখ বন্ধ করলেই , আমি সেই পাতা গুলো , এখনও দেখতে পাই ।

সেই ছোট্ট আমি টা আজ আছি , আমার সাথী আপু আছে , কিন্তু হারিয়ে গেছে টকি বলার বয়স ।

আমি আর আমার মামাতো বোন নানার বাসার কাঁঠাল গাছ তলায় খেলতাম , আমরা দুজনে কাঁঠাল গাছের পাতা কুড়িয়ে, জামার পকেটে রাখতাম । আর বলতাম , আমাদের পকেট ভর্তি টাকা । কাঁঠাল গাছ এর পাশে একটা বেল গাছ ছিল । গাছ টা এখনও আছে । সবাই
বলতো , সেই গাছে নাকি বৃদ্ধ এক জ্বীন থাকে । সেই জ্বীন নাকি মানুষের উপকার করে ।
আমার নানার সাথে সেই জ্বীন নাকি মসজিদে নামাজ পড়তে যেতো ।

তখন রাজশাহীর রায়পাড়া ছিল গাছপালা , ঝোপ জঙ্গলে ভরা । অদ্ভুত সুন্দর কাশ ফুল ফুটতো । পাট গাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতো ।

আমি সাথী আপুর সাথে আমার আরেক নানীর
( নানীর বোন ) বাসায়
যেতাম । নাসরিন খালা খুব সুন্দর সুন্দর গল্প বলতো ।

ভোর বেলা আমি আর সাথী আপু মামার বাসার ছাদে , বাটা বিস্কুট আর চা খেতাম । গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে বানানো চা । অদ্ভুত সুন্দর সেই স্বাদ ।

পঁচিশ পয়সা দিয়ে পাওয়া যেত একটি বাটা বিস্কুট । কি যে সুন্দর আর স্বপ্নমাখা সেই দিন গুলো । বাটা বিস্কুট এখনও পাওয়া যায় । তবে পঁচিশ পয়সার সেই বাটা বিস্কুটের আজ বড়ই অভাব ।

শীতের সকালে, আকাশে উড়ে যেত শীতের অতিথি পাখি , ধবধবে সাদা বক । আমি আর আপু মুগ্ধ চোখে দেখতাম সেই দৃশ্য ।

বিকেলে আমি আর সাথী আপু মসজিদে পড়তে
যেতাম । অনেক ছোট ছোট ছেলে মেয়ে একসাথে কায়দা বই পড়তাম । মসজিদ থেকে ফেরার পথে মার্বেল
কিনতাম । বিভিন্ন রং এর মার্বেল ।

মামী অনেক মজার মজার খাবার রান্না করতো । আমি আর আপু ছাদের উপর থেকে দেখতাম , বেগুন টমেটো চাষ করার কাজ । মাঝে মাঝে লিচু বাগান এর মাচার উপর আমরা দুজন বসে থাকতাম ।

সন্ধ্যায় মাগরীব এর আযান ভেসে আসতো আমার নানার কবরস্থানের দিক থেকে । তখন মনটা উদাস হয়ে যেত ।

আমার নানা নানী মিশে আছেন রায়পাড়ার সেই কবরস্থানের মাটিতে । আমার নানা মরহুম আলহাজ্ব ডাঃ জয়নাল আবেদীন ছিলেন ভীষণ মহত আর হৃদয়বান চিকিৎসক ।

তিনি নিবেদিত প্রাণ হয়ে অগণিত মানুষের উপকার করেছেন । তাঁর মহত্ত্বের জন্য তিনি রায়পাড়ার বিখ্যাত চিকিৎসক ছিলেন ।

নানাভাই আমি যেন তোমার মতো মহত হতে পারি ।

চোখ বন্ধ করলেই আজো দেখতে পাই,
আমি আর সাথী আপু , আমরা হাত ধরে ছুটে চলেছি , হলুদ সরিষা ক্ষেতের মধ্যে ।
অদ্ভুত সুন্দর সেই সরিষার
ফুল ।

তখন মোবাইল ফোন ছিল
না । তাই হলুদ সরিষা ক্ষেতের ছবি তুলতে পারিনি।
ছবি গুলো ক্যামেরা তে নেয় ,
ছবি গুলো থেকে গেছে বুকের মধ্যখানে ।

আর থাকবে অনন্তকাল ।

আজ
আবারো খুব বলতে ইচ্ছে করছে ,
” সাথী আপু টকি , আই কই, আই কে খুজো…….,
সাথী আপু টকি……..। ”

ফারহানা মোবিন – 

লেখক ও চিকিৎসক

Facebook Comments


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর





logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Head Office: Jeleeb al shouyoukh
Mahrall complex , Mezzanine floor, Office No: 14
Po.box No: 41260, Zip Code: 85853
KUWAIT
Phone : +965 65535272

Dhaka Office : 69/C, 6th Floor, Panthopath,
Dhaka, Bangladesh.
Phone : +8801733966556 / +8801920733632

For News :
agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com