Menu |||

রাঙ্গামাটির পরিস্থিতি ‘মহাবিপর্যয়কর’: জেলা প্রশাসক

_96535058_mediaitem96535057

ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সময় পাহাড়ধসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। সড়কপথে যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে, জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

তবে প্রশাসন বলছে, আগামী তিনদিনের মধ্যেই রাঙ্গামাটি থেকে চট্টগ্রাম সড়কে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করা যেতে পারে ।

এদিকে পাহাড়ধসের ঘটনায় শনিবারও দুজনের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে পাঁচ জেলায় পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫৮ জনে। শুধু রাঙ্গামাটিতেই অন্তত ১১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

একে ‘মহাবিপর্যয়কর’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করছে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসন।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বিবিসি বাংলার সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন “মহাবিপর্যয়ক অবস্থা আমরা পার করছি। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটির রাস্তা আমাদের লাইফ লাইন, এটার মাধ্যমে আমাদের সকল খাদ্যদ্রব্য বা অন্য কোন কিছু পরিবহনের জন্য আমরা এটি ব্যবহার করে থাকি”।

“এছাড়া খাগড়াছড়ির সঙ্গে সংযোগ রাস্তা যেটি হয়েছিল, আরেকটি রাস্তা কাপ্তাই হয়ে বান্দরবান হয়ে চট্টগ্রাম যাবার রাস্তা এ সবকয়টিই বিপর্যস্ত” -জানান মি: মান্নান।

তিনি জানান, সড়ক যোগাযোগ পুন:স্থাপন করার জন্য জোরেশোরে কাজ করছে সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন। তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগে।

এখন সব কাজই নৌপথে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান।

তিনি বলছিলেন খাদ্য সংকটের মতো পরিস্থিতি এখনো সেখানে তৈরি হয়নি. যথেষ্ট খাদ্য মজুত রয়েছে রাঙ্গামাটিতে।

“রাঙ্গামাটির বাজারে বিভিন্ন গোডাউন আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি কোনো সংকট হতে পারে কিনা। আগামী পনের দিনও যদি চাল,ডাল, তেলের সাপ্লাই না আসে তাহলেও কোনো সংকট হবে না” বলেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসকের মতে, এ মুহুর্তে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ঘরবাড়ি হারানো মানুষের পুনর্বাসন। । তিনি আশঙ্কা করছেন, আগের জায়গায় ঘর তুলে দিলে একই ভাগ্য হতে পারে।

 

আবারো ভারী বর্ষণে বিভিন্ন পাহাড়ী _96535063_mediaitem96535062এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে, আর এমন ভূমিধসের পরে সবাই সচেতন হলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে বলে জানান মি: মান্নান।

“স্মরণকালে যা ঘটেছে, একশো বছরে বা তারও আগে রাঙ্গামাটির পাহাড়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে নাই। আমরা আগের তুলনায় সচেতন হয়েছি। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাত হলে আশঙ্কাতো আছেই, এমনকি বৃষ্টি দেখে আমিও আতঙ্কিত”।

“এতগুলো লাশ দেখার পরে কেউ স্বাভাবিক থাকতে পারে না। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই মানুষগুলোর পুনর্বাসন। আমরা যদি আগের জায়গাতেই তাদের পুনর্বাসন করি তাহলে ‌এমন নির্মম পরিস্থিতিতে আবারো পড়তে হতে পারে”-বলছিলেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক।

রাঙ্গামাটিতে যথেষ্ট পরিমাণ ‘প্লেইন ল্যান্ড’ বা সমতল ভূমি না থাকায় পুনর্বাসনটা চ্যালেঞ্জের কাজ বলেই মনে করছেন তিনি।

“প্লেইন ল্যান্ড থাকলে আমরা সহজেই তাদের পুনর্বাসন করতে পারতাম। যদি সমতলে তাদের ঘর তুলে দেয়া যেতম সরকারি সহায়তায় ঘরবাড়ি তুলে দিয়ে তাদের নিরাপত্তা ভালোভাবে নিশ্চিত করা যেত”।

এখন পুনর্বাসনের কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য সঠিক যাচাইবাছাই প্রয়োজন এবং সেটি চলছে বলে জানান মি: মান্নান।

জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত রাঙ্গামাটির ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই হাজার চারশো জন অবস্থান করছে।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশাল সফলতা

» কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ প্রবাসীর মৃতদেহ কমলগঞ্জের কান্দিগাও পৌঁছেছে

» ঝালকাঠিতে ধরা হচ্ছে মা ইলিশ; বন্ধ হচ্ছেনা বিক্রি

» বীরগঞ্জে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে র‌্যালী

» দিনাজপুরে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন

» বীরগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

» রাঁধুনীর বিচারকের দায়িত্বে পূর্ণিমা

» হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর

» আগামী বুধবার দেশে ফিরবেন খালেদা জিয়া

» নতুন ছবি দিয়ে অভিনয়ে ফিরছেন শাবনূর



logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

রাঙ্গামাটির পরিস্থিতি ‘মহাবিপর্যয়কর’: জেলা প্রশাসক

_96535058_mediaitem96535057

ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সময় পাহাড়ধসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। সড়কপথে যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে, জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

তবে প্রশাসন বলছে, আগামী তিনদিনের মধ্যেই রাঙ্গামাটি থেকে চট্টগ্রাম সড়কে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করা যেতে পারে ।

এদিকে পাহাড়ধসের ঘটনায় শনিবারও দুজনের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে পাঁচ জেলায় পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫৮ জনে। শুধু রাঙ্গামাটিতেই অন্তত ১১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

একে ‘মহাবিপর্যয়কর’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করছে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসন।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বিবিসি বাংলার সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন “মহাবিপর্যয়ক অবস্থা আমরা পার করছি। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটির রাস্তা আমাদের লাইফ লাইন, এটার মাধ্যমে আমাদের সকল খাদ্যদ্রব্য বা অন্য কোন কিছু পরিবহনের জন্য আমরা এটি ব্যবহার করে থাকি”।

“এছাড়া খাগড়াছড়ির সঙ্গে সংযোগ রাস্তা যেটি হয়েছিল, আরেকটি রাস্তা কাপ্তাই হয়ে বান্দরবান হয়ে চট্টগ্রাম যাবার রাস্তা এ সবকয়টিই বিপর্যস্ত” -জানান মি: মান্নান।

তিনি জানান, সড়ক যোগাযোগ পুন:স্থাপন করার জন্য জোরেশোরে কাজ করছে সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন। তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগে।

এখন সব কাজই নৌপথে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান।

তিনি বলছিলেন খাদ্য সংকটের মতো পরিস্থিতি এখনো সেখানে তৈরি হয়নি. যথেষ্ট খাদ্য মজুত রয়েছে রাঙ্গামাটিতে।

“রাঙ্গামাটির বাজারে বিভিন্ন গোডাউন আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি কোনো সংকট হতে পারে কিনা। আগামী পনের দিনও যদি চাল,ডাল, তেলের সাপ্লাই না আসে তাহলেও কোনো সংকট হবে না” বলেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসকের মতে, এ মুহুর্তে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ঘরবাড়ি হারানো মানুষের পুনর্বাসন। । তিনি আশঙ্কা করছেন, আগের জায়গায় ঘর তুলে দিলে একই ভাগ্য হতে পারে।

 

আবারো ভারী বর্ষণে বিভিন্ন পাহাড়ী _96535063_mediaitem96535062এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে, আর এমন ভূমিধসের পরে সবাই সচেতন হলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে বলে জানান মি: মান্নান।

“স্মরণকালে যা ঘটেছে, একশো বছরে বা তারও আগে রাঙ্গামাটির পাহাড়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে নাই। আমরা আগের তুলনায় সচেতন হয়েছি। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাত হলে আশঙ্কাতো আছেই, এমনকি বৃষ্টি দেখে আমিও আতঙ্কিত”।

“এতগুলো লাশ দেখার পরে কেউ স্বাভাবিক থাকতে পারে না। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই মানুষগুলোর পুনর্বাসন। আমরা যদি আগের জায়গাতেই তাদের পুনর্বাসন করি তাহলে ‌এমন নির্মম পরিস্থিতিতে আবারো পড়তে হতে পারে”-বলছিলেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক।

রাঙ্গামাটিতে যথেষ্ট পরিমাণ ‘প্লেইন ল্যান্ড’ বা সমতল ভূমি না থাকায় পুনর্বাসনটা চ্যালেঞ্জের কাজ বলেই মনে করছেন তিনি।

“প্লেইন ল্যান্ড থাকলে আমরা সহজেই তাদের পুনর্বাসন করতে পারতাম। যদি সমতলে তাদের ঘর তুলে দেয়া যেতম সরকারি সহায়তায় ঘরবাড়ি তুলে দিয়ে তাদের নিরাপত্তা ভালোভাবে নিশ্চিত করা যেত”।

এখন পুনর্বাসনের কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য সঠিক যাচাইবাছাই প্রয়োজন এবং সেটি চলছে বলে জানান মি: মান্নান।

জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত রাঙ্গামাটির ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই হাজার চারশো জন অবস্থান করছে।

Facebook Comments


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর





logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Head Office: Jeleeb al shouyoukh
Mahrall complex , Mezzanine floor, Office No: 14
Po.box No: 41260, Zip Code: 85853
KUWAIT
Phone : +965 65535272

Dhaka Office : 69/C, 6th Floor, Panthopath,
Dhaka, Bangladesh.
Phone : +8801733966556 / +8801920733632

For News :
agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com