Menu |||

মৃত্যুফাঁদ পেরিয়ে ইতালিতে যাওয়া এক বাংলাদেশীর গল্প

_96808449_945a2ea2-9a98-43f0-8b0b-9744f8c0c5fb

৫ই মে রাত একটা। লিবিয়ার উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেবার জন্য একটি ছোট ট্রলারে উঠেছিলেন প্রায় ৯০০ যাত্রী। তিল ধারণের জায়গা ছিলনা সে ট্রলারে ।

গাদাগাদি করে বসে থাকা ট্রলারের যাত্রীদের দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা। এ যাত্রীদের ভিড়ে ছিলেন বাংলাদেশের বাকের হোসাইন।

ট্রলারের সব যাত্রীর মতো মি: হোসাইনের লক্ষ্য ছিল ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালিতে ঢুকবেন।

আর্থিক সচ্ছলতার আশায় স্বপ্নের ইউরোপে পৌঁছতে যে কোন পরিণতির জন্য তৈরি ছিলেন বাকের হোসাইন।

তার সামনে নিয়তির দু’টো দরজা খোলা ছিল। হয়তো সাগরে ডুবে মৃত্যু নয়তো ইটালিতে পৌঁছানো।

শুধু বাকের হোসাইন নয়, তার মতো আরো প্রায় ২৫০জন বাংলাদেশী ছিলেন সে ট্রলারে।

“জীবনে কিছু করতে পারতেছি না। অনেক কষ্ট ছিল বুকে। চিন্তা করলাম একটা ঝুঁকি নিয়ে দেখি। বাঁচলে তো বাঁচলাম, আর মারা গেলে তো কিছু করার নাই,” বলছিলেন বাকের হোসাইন।

ট্রলারটি লিবিয়া উপকূল ছেড়ে আসার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই উত্তাল সমুদ্রের রূপ দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন যাত্রীরা। ভয়ঙ্কর সে যাত্রার কথা আমৃত্যু মনে থাকবে বাকের হোসাইনের।

তিনি বলছিলেন, ” অনেকে অজ্ঞান হয়ে গেছে। বমি করতেছে। সাগর দেখে অনেকে ভয় পাইছে। মনে হয় নতুন জন্ম নিয়ে আসছি এখানে।”

লিবিয়া উপকুল থেকে ট্রলারে যাত্রা শুরুর পাঁচ ঘণ্টা পরে সেটি ইটালির সমুদ্র সীমায় ঢোকে। কিন্তু সেখানে ইটালির উপকূল রক্ষীদের জাহাজের সামনে পড়ে নৌকাটি।

প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ইটালির উপকূল রক্ষীরা সে ট্রলারের যাত্রীদের বড় জাহাজে তুলে আনা শুরু করে।

প্রায় ৫০০ যাত্রীকে বড় জাহাজে তোলার পর সে কাজ বন্ধ করে দেয় ইটালির উপকূল রক্ষীরা।

১০ ঘণ্টা সমুদ্রে ভাসমান থাকার পর ইটালির সময় রাত তিনটার দিকে একটি বড় জাহাজে তোলা হয় বাকি যাত্রীদের। বর্তমানে ইটালির একটি আশ্রয় শিবিরে আছেন বাকের হোসাইন।

নোয়াখালীর বাসিন্দা মি: হোসাইন বাংলাদেশ থেকে প্রথমে শ্রীলংকা এবং তারপর কাতার পৌঁছান। কাতার থেকে তুরস্ক হয়ে তিনি লিবিয়ায় পৌঁছেছিলেন।

এ পুরো যাত্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে তিনি শেষ পর্যন্ত ইটালিতে পৌঁছেছেন।

লিবিয়া থেকে ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালিতে পৌঁছনোর এ পথ কিভাবে চিনলেন বাকের হোসাইন?

তিনি বলেন, ” অনেক নিউজে দেখছি যে লিবিয়া থেকে ইটালিতে যাওয়া যায়। তখন আমাদের এলাকার এক দালালের সাথে চুক্তি করলাম।”

মি: হোসাইনের মতো শত-শত বাংলাদেশী গত কয়েক বছরে এভাবেই ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি গিয়েছেন।

আবার ভূ-মধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে অনেকেরই সলিল সমাধি হয়েছে।

 

সূত্র, বিবিসি বাংলা

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সিলেট বিভাগ প্রবাসী সমিতি কর্তৃক অনুদান প্রদান

» রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন সুষমা

» সৈয়দ আশরাফুলের স্ত্রী শীলা ইসলাম আর নেই

» কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশাল সফলতা

» কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ প্রবাসীর মৃতদেহ কমলগঞ্জের কান্দিগাও পৌঁছেছে

» ঝালকাঠিতে ধরা হচ্ছে মা ইলিশ; বন্ধ হচ্ছেনা বিক্রি

» বীরগঞ্জে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে র‌্যালী

» দিনাজপুরে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন

» বীরগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

» রাঁধুনীর বিচারকের দায়িত্বে পূর্ণিমা



logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

মৃত্যুফাঁদ পেরিয়ে ইতালিতে যাওয়া এক বাংলাদেশীর গল্প

_96808449_945a2ea2-9a98-43f0-8b0b-9744f8c0c5fb

৫ই মে রাত একটা। লিবিয়ার উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেবার জন্য একটি ছোট ট্রলারে উঠেছিলেন প্রায় ৯০০ যাত্রী। তিল ধারণের জায়গা ছিলনা সে ট্রলারে ।

গাদাগাদি করে বসে থাকা ট্রলারের যাত্রীদের দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা। এ যাত্রীদের ভিড়ে ছিলেন বাংলাদেশের বাকের হোসাইন।

ট্রলারের সব যাত্রীর মতো মি: হোসাইনের লক্ষ্য ছিল ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালিতে ঢুকবেন।

আর্থিক সচ্ছলতার আশায় স্বপ্নের ইউরোপে পৌঁছতে যে কোন পরিণতির জন্য তৈরি ছিলেন বাকের হোসাইন।

তার সামনে নিয়তির দু’টো দরজা খোলা ছিল। হয়তো সাগরে ডুবে মৃত্যু নয়তো ইটালিতে পৌঁছানো।

শুধু বাকের হোসাইন নয়, তার মতো আরো প্রায় ২৫০জন বাংলাদেশী ছিলেন সে ট্রলারে।

“জীবনে কিছু করতে পারতেছি না। অনেক কষ্ট ছিল বুকে। চিন্তা করলাম একটা ঝুঁকি নিয়ে দেখি। বাঁচলে তো বাঁচলাম, আর মারা গেলে তো কিছু করার নাই,” বলছিলেন বাকের হোসাইন।

ট্রলারটি লিবিয়া উপকূল ছেড়ে আসার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই উত্তাল সমুদ্রের রূপ দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন যাত্রীরা। ভয়ঙ্কর সে যাত্রার কথা আমৃত্যু মনে থাকবে বাকের হোসাইনের।

তিনি বলছিলেন, ” অনেকে অজ্ঞান হয়ে গেছে। বমি করতেছে। সাগর দেখে অনেকে ভয় পাইছে। মনে হয় নতুন জন্ম নিয়ে আসছি এখানে।”

লিবিয়া উপকুল থেকে ট্রলারে যাত্রা শুরুর পাঁচ ঘণ্টা পরে সেটি ইটালির সমুদ্র সীমায় ঢোকে। কিন্তু সেখানে ইটালির উপকূল রক্ষীদের জাহাজের সামনে পড়ে নৌকাটি।

প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ইটালির উপকূল রক্ষীরা সে ট্রলারের যাত্রীদের বড় জাহাজে তুলে আনা শুরু করে।

প্রায় ৫০০ যাত্রীকে বড় জাহাজে তোলার পর সে কাজ বন্ধ করে দেয় ইটালির উপকূল রক্ষীরা।

১০ ঘণ্টা সমুদ্রে ভাসমান থাকার পর ইটালির সময় রাত তিনটার দিকে একটি বড় জাহাজে তোলা হয় বাকি যাত্রীদের। বর্তমানে ইটালির একটি আশ্রয় শিবিরে আছেন বাকের হোসাইন।

নোয়াখালীর বাসিন্দা মি: হোসাইন বাংলাদেশ থেকে প্রথমে শ্রীলংকা এবং তারপর কাতার পৌঁছান। কাতার থেকে তুরস্ক হয়ে তিনি লিবিয়ায় পৌঁছেছিলেন।

এ পুরো যাত্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে তিনি শেষ পর্যন্ত ইটালিতে পৌঁছেছেন।

লিবিয়া থেকে ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালিতে পৌঁছনোর এ পথ কিভাবে চিনলেন বাকের হোসাইন?

তিনি বলেন, ” অনেক নিউজে দেখছি যে লিবিয়া থেকে ইটালিতে যাওয়া যায়। তখন আমাদের এলাকার এক দালালের সাথে চুক্তি করলাম।”

মি: হোসাইনের মতো শত-শত বাংলাদেশী গত কয়েক বছরে এভাবেই ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি গিয়েছেন।

আবার ভূ-মধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে অনেকেরই সলিল সমাধি হয়েছে।

 

সূত্র, বিবিসি বাংলা

Facebook Comments


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর





logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Head Office: Jeleeb al shouyoukh
Mahrall complex , Mezzanine floor, Office No: 14
Po.box No: 41260, Zip Code: 85853
KUWAIT
Phone : +965 65535272

Dhaka Office : 69/C, 6th Floor, Panthopath,
Dhaka, Bangladesh.
Phone : +8801733966556 / +8801920733632

For News :
agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com