Menu |||

বিশ্ব ইজতেমায় জুমার নামাজে এক সাথে আদায় করেছেন লক্ষ লক্ষ মুসলিম জনতা

photo-1484327421

জঙ্গি তৎপরতাকে বিবেচনায় রেখে নজিরবিহীন পাঁচ স্তরের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। নানা বিড়ম্বনা উপেক্ষা করে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি শুক্রবারও ইজতেমা ময়দানে ছুটে আসেন।

এদিন জুমাবার হওয়ায় লাখো মুসল্লির ঢল নামে টঙ্গীর তুরাগতীরে। নামাজের আগেই ইজতেমার পুরো প্যান্ডেল ও ময়দান কানায় কানায় ভরে যায়। প্যান্ডেলের নিচে জায়গা না পেয়ে মুসল্লিরা অংশ নেন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের সড়ক ও গলিগুলোর ওপর। রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের এ ঢল অব্যাহত থাকবে। এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে লাখ লাখ মুসল্লির সঙ্গে বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রায় সাত হাজার মুসল্লি উপস্থিত হয়েছেন।

শুক্রবার বাদ ফজর ভারতের মাওলানা ওবায়দুল খোরশেদ আমবয়ানের মাধ্যমে এবারের বিশ্ব ইজতেমার মূল কাজ শুরু করেন। এ বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মুরুব্বি মাওলানা মো. জাকির হোসেন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও উপস্থিত লাখ লাখ মুসল্লির উদ্দেশে যথারীতি ইমান, আমল, আখলাক ইত্যাদি বিষয়ে আমবয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার প্রথম পর্বের তিনদিনের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৫ জানুয়ারি রোববার জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। এর চারদিন পর আগামী ২০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্বের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা।

ইজতেমা ময়দান এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবারই প্রথম বিশ্ব ইজতেমার চারপাশ এবং বাইরে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। এরই মধ্যে লাখো মুসল্লি সেখানে সমবেত হয়েছেন। বিভিন্ন জেলার যুবক, কিশোর, বয়োজ্যেষ্ঠ সব শ্রেণির মানুষ ইজতেমায় এসেছেন। অনেকে ৪০ দিন (এক চিল্লা) বা ১২০ দিন (তিন চিল্লা) ইসলামের দাওয়াত শেষ করে ইজতেমায় শরিক হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ইজতেমা শেষে ইসলামের দাওয়াত দিতে ৪০ দিন (এক চিল্লা) বা ১২০ দিনের জন্য (তিন চিল্লা) বেরিয়ে পড়বেন। ধনী, দরিদ্র সবাই এখানে এক শামিয়ানার নিচে একসঙ্গে অবস্থান করছেন। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ ব্যবহার্য দ্রব্যাদি কাঁধে বহন করে মাঠে আসছেন।

বৃহত্তম জুমার নামাজ

বিশ্ব ইজতেমার শুরুর দিন জুমাবার হওয়ায় ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ যাবৎকালের বৃহত্তম জুমার জামাত। দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে নামাজ শুরু হয়। নামাজে ইমামতি করেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. ফারুক হোসেন। ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হন। ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গাসহ সবস্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন হোগলা পাটি, চটের বস্তা, খবরের কাগজ বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হন। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নামাজে ২০ লক্ষাধিক মুসল্লি শরীক হন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়।

প্রথম দিনে যাঁরা বয়ান করলেন

ইমান-আমলের ওপর প্রথম দিন বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ওবায়দুল খোরশেদ। বাংলায় তর্জমা করেন বাংলাদেশের মুরুব্বি মাওলানা মো. জাকির হোসেন। জুমার নামাজের পর বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা ওয়াসিকুর রহমান, বাদ আসর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আহসান ও বাদ মাগরিব মাওলানা শওকত। বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরুব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রথম দিনের বয়ান

বয়ানে বলা হয়, দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান স্থান হলো মসজিদ আর সবচেয়ে কম দামি জায়গা হলো বাজার। যাঁরা মসজিদে নামাজ আদায় করেন, তাঁদের জন্য বেহেশতে মহল তৈরি হয়। যে মসজিদকে ভালোবাসে, স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তাকে ভালোবাসেন। এ দুনিয়ায় যিনি একটি মসজিদ বানান, আল্লাহ তাঁর জন্য পরপারে একটি মহল বানাবেন। জুমার দিন একটি পবিত্র দিন। সবচেয়ে উত্তম দিন হলো জুমার দিন। এটি হলো সবচেয়ে বড় ও সম্মানী দিন। এটি দুই ঈদের চেয়েও ফজিলতপূর্ণ। এ দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়। এদিনই দুনিয়া ধ্বংস হবে। এদিনে আল্লাহর কাছে যা চাইবে, আল্লাহ তা তাকে দেবেন। জুমার নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে গোসল-অজু করে মসজিদের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকে তার নেকি লেখা হয়। আমরা যা করব আল্লাহকে রাজি করার জন্য করব। আল্লাহ পাকের হুকুমমতো আমরা যেন সারা জীবন চলতে পারি সে চেষ্টা করতে হবে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে ও সারা দুনিয়ায় মানুষের মাঝে দীন কায়েম করার জন্য ছড়িয়ে পড়তে হবে।

বয়ানের তাৎক্ষণিক অনুবাদ

বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগ মারকাজের ১৫-২০ জন শুরা সদস্য ও বুজর্গ বয়ান পেশ করবেন। মূল বয়ান উর্দুতে হলেও বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ হচ্ছে। বিদেশি মেহমানরা মূল বয়ান মঞ্চের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বপাশে হোগলা পাটিতে বসেন। বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন করে মুরুব্বি মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনান।

জুমার নামাজে ভিআইপিদের অংশগ্রহণ

ইজতেমার প্রথম দিনে জুমার নামাজে অংশ নেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী, গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা

টঙ্গী হাসপাতাল ও বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় দুই হাজার জন মুসল্লি চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং প্রায় অর্ধশতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থদের অধিকাংশই ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, আমাশয়, শ্বাসকষ্টের ও হৃদরোগের রোগী বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আলী হায়দার খান।

এদিকে সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা দিতে ইজতেমা ময়দানে প্রায় অর্ধশত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে কাজ করছে।

শুক্রবার সকাল থেকে ইজতেমা ময়দানসংলগ্ন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে মুসল্লিদের চিকিৎসা নিতে ভিড় দেখা গেছে। মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা দিতে ময়দানের আশপাশে ও মুন্নুনগর এলাকায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি পরিষদ, র‍্যাবের  ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প, গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস, টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, হামদর্দ ওয়াক্ফ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক কলেজ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইসলামী মিশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনেরসহ বিভিন্ন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন। এ ছাড়া ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও আহসানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালের পক্ষ থেকে সকালে বিনামূল্যে চিকিৎসাকেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অসুস্থ মুসল্লিদের চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের ছুটি বাতিল

ইজতেমা উপলক্ষে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সব প্রস্তুতি নিয়েছে। মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইজতেমায় দায়িত্ব পালনকারী সব চিকিৎসক ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আলী হায়দার খান। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মেডিকেল অফিসারদের তালিকা ও ডিউটি রোস্টার করা হয়েছে। তিন পালায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও মেডিকেল অফিসাররা ইজতেমা ময়দানে ডিউটি করছেন। এ ছাড়া টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে আরো শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ হাসপাতালের উদ্যোগে মুন্নু গেট, বাটা গেট ও এটলাস হোন্ডা রোডে মুসল্লিদের তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। মুসল্লি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে হোটেলে খাবারের মান ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিস্ট্রেটসহ স্যানিটেশন টিম কাজ করছে।

ইজতেমায় বিশেষ ট্রেন ও বাস সার্ভিস

ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ইজতেমা শুরুর আগের দিন থেকে বিআরটিসির শতাধিক স্পেশাল বাস সার্ভিস চলাচল করছে। বিআরটিসির এসব বাস আবদুল্লাহপুর-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল, শিববাড়ী-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল, টঙ্গী-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল, গাজীপুর-চৌরাস্তা, মতিঝিল-ভায়া ইজতেমাস্থল, গাবতলী-গাজীপুর ভায়া ইজতেমাস্থল, গাবতলী-মহাখালী ভায়া ইজতেমাস্থল, গাজীপুর-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল, মতিঝিল-বাইপাল ভায়া ইজতেমাস্থল বিআরটিসির বাস সার্ভিস চলাচল করছে।

অপরদিকে বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস পরিচালনা করছে। এ ছাড়া সব আন্তনগর, মেইল এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুই ধাপের ইজতেমার প্রথম ধাপের শুক্রবার ঢাকা-টঙ্গী-ঢাকা দুটি জুমা স্পেশাল, আখেরি মোনাজাতের আগের দুদিন জামালপুর ও আখাউড়া থেকে দুটি করে চারটি অতিরিক্ত ট্রেন চলাচল করছে।

বিশ্ব ইজতেমার তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি মাওলানা গিয়াস উদ্দীন জানান, গত বছর ৩২টি জেলা নিয়ে ইজতেমার দুই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা দুই পর্বে বছর অংশ নিচ্ছে। এ বছরের প্রথম পর্বে অংশ নেবে ঢাকার একাংশসহ ১৭টি জেলার তাবলিগ জামাতের অনুসারীরা। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবে ১৫টি জেলাসহ ঢাকার বাকি অংশের তাবলিগ অনুসারীরা। তবে বিদেশি মুসল্লিরা প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন। মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বের ইজতেমা শুরু পর ২০১৫ সালে আবারও এ পরিবর্তন আনা হয়। বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষ পর্যায়ের মুরুব্বিরা ইজতেমার এ তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আজ সেয়ানে সেয়ানে লড়াই

» প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট ত্রুটি মামলায় ১০ কর্মীর জামিন

» স্বপ্নের চরিত্রে পপি

» কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশি নিহত

» ‘বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে ট্রাম্প ও হোয়াউট হাউজ একঘরে হয়ে গেছে’

» ইসরাইলের আহ্বান নাকচ করলেন মোগেরিনি

» ইরানের পরমাণু সমঝোতা দেখে ভয় পেয়েছে উত্তর কোরিয়া : রাশিয়া

» আমরা হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ভাগাভাগি করি না : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

» ‘জেরুজালেমের জন্য মালয়েশিয়ার সেনারা প্রস্তত’

» “সামথিং ইজ বেটার দ্যান নাথিং”



logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

বিশ্ব ইজতেমায় জুমার নামাজে এক সাথে আদায় করেছেন লক্ষ লক্ষ মুসলিম জনতা

photo-1484327421

জঙ্গি তৎপরতাকে বিবেচনায় রেখে নজিরবিহীন পাঁচ স্তরের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। নানা বিড়ম্বনা উপেক্ষা করে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি শুক্রবারও ইজতেমা ময়দানে ছুটে আসেন।

এদিন জুমাবার হওয়ায় লাখো মুসল্লির ঢল নামে টঙ্গীর তুরাগতীরে। নামাজের আগেই ইজতেমার পুরো প্যান্ডেল ও ময়দান কানায় কানায় ভরে যায়। প্যান্ডেলের নিচে জায়গা না পেয়ে মুসল্লিরা অংশ নেন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের সড়ক ও গলিগুলোর ওপর। রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের এ ঢল অব্যাহত থাকবে। এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে লাখ লাখ মুসল্লির সঙ্গে বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রায় সাত হাজার মুসল্লি উপস্থিত হয়েছেন।

শুক্রবার বাদ ফজর ভারতের মাওলানা ওবায়দুল খোরশেদ আমবয়ানের মাধ্যমে এবারের বিশ্ব ইজতেমার মূল কাজ শুরু করেন। এ বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মুরুব্বি মাওলানা মো. জাকির হোসেন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও উপস্থিত লাখ লাখ মুসল্লির উদ্দেশে যথারীতি ইমান, আমল, আখলাক ইত্যাদি বিষয়ে আমবয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার প্রথম পর্বের তিনদিনের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৫ জানুয়ারি রোববার জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। এর চারদিন পর আগামী ২০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্বের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা।

ইজতেমা ময়দান এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবারই প্রথম বিশ্ব ইজতেমার চারপাশ এবং বাইরে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। এরই মধ্যে লাখো মুসল্লি সেখানে সমবেত হয়েছেন। বিভিন্ন জেলার যুবক, কিশোর, বয়োজ্যেষ্ঠ সব শ্রেণির মানুষ ইজতেমায় এসেছেন। অনেকে ৪০ দিন (এক চিল্লা) বা ১২০ দিন (তিন চিল্লা) ইসলামের দাওয়াত শেষ করে ইজতেমায় শরিক হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ইজতেমা শেষে ইসলামের দাওয়াত দিতে ৪০ দিন (এক চিল্লা) বা ১২০ দিনের জন্য (তিন চিল্লা) বেরিয়ে পড়বেন। ধনী, দরিদ্র সবাই এখানে এক শামিয়ানার নিচে একসঙ্গে অবস্থান করছেন। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ ব্যবহার্য দ্রব্যাদি কাঁধে বহন করে মাঠে আসছেন।

বৃহত্তম জুমার নামাজ

বিশ্ব ইজতেমার শুরুর দিন জুমাবার হওয়ায় ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ যাবৎকালের বৃহত্তম জুমার জামাত। দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে নামাজ শুরু হয়। নামাজে ইমামতি করেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. ফারুক হোসেন। ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হন। ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গাসহ সবস্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন হোগলা পাটি, চটের বস্তা, খবরের কাগজ বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হন। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নামাজে ২০ লক্ষাধিক মুসল্লি শরীক হন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়।

প্রথম দিনে যাঁরা বয়ান করলেন

ইমান-আমলের ওপর প্রথম দিন বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ওবায়দুল খোরশেদ। বাংলায় তর্জমা করেন বাংলাদেশের মুরুব্বি মাওলানা মো. জাকির হোসেন। জুমার নামাজের পর বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা ওয়াসিকুর রহমান, বাদ আসর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আহসান ও বাদ মাগরিব মাওলানা শওকত। বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরুব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রথম দিনের বয়ান

বয়ানে বলা হয়, দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান স্থান হলো মসজিদ আর সবচেয়ে কম দামি জায়গা হলো বাজার। যাঁরা মসজিদে নামাজ আদায় করেন, তাঁদের জন্য বেহেশতে মহল তৈরি হয়। যে মসজিদকে ভালোবাসে, স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তাকে ভালোবাসেন। এ দুনিয়ায় যিনি একটি মসজিদ বানান, আল্লাহ তাঁর জন্য পরপারে একটি মহল বানাবেন। জুমার দিন একটি পবিত্র দিন। সবচেয়ে উত্তম দিন হলো জুমার দিন। এটি হলো সবচেয়ে বড় ও সম্মানী দিন। এটি দুই ঈদের চেয়েও ফজিলতপূর্ণ। এ দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়। এদিনই দুনিয়া ধ্বংস হবে। এদিনে আল্লাহর কাছে যা চাইবে, আল্লাহ তা তাকে দেবেন। জুমার নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে গোসল-অজু করে মসজিদের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকে তার নেকি লেখা হয়। আমরা যা করব আল্লাহকে রাজি করার জন্য করব। আল্লাহ পাকের হুকুমমতো আমরা যেন সারা জীবন চলতে পারি সে চেষ্টা করতে হবে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে ও সারা দুনিয়ায় মানুষের মাঝে দীন কায়েম করার জন্য ছড়িয়ে পড়তে হবে।

বয়ানের তাৎক্ষণিক অনুবাদ

বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগ মারকাজের ১৫-২০ জন শুরা সদস্য ও বুজর্গ বয়ান পেশ করবেন। মূল বয়ান উর্দুতে হলেও বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ হচ্ছে। বিদেশি মেহমানরা মূল বয়ান মঞ্চের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বপাশে হোগলা পাটিতে বসেন। বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন করে মুরুব্বি মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনান।

জুমার নামাজে ভিআইপিদের অংশগ্রহণ

ইজতেমার প্রথম দিনে জুমার নামাজে অংশ নেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী, গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা

টঙ্গী হাসপাতাল ও বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় দুই হাজার জন মুসল্লি চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং প্রায় অর্ধশতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থদের অধিকাংশই ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, আমাশয়, শ্বাসকষ্টের ও হৃদরোগের রোগী বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আলী হায়দার খান।

এদিকে সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা দিতে ইজতেমা ময়দানে প্রায় অর্ধশত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে কাজ করছে।

শুক্রবার সকাল থেকে ইজতেমা ময়দানসংলগ্ন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে মুসল্লিদের চিকিৎসা নিতে ভিড় দেখা গেছে। মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা দিতে ময়দানের আশপাশে ও মুন্নুনগর এলাকায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি পরিষদ, র‍্যাবের  ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প, গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস, টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, হামদর্দ ওয়াক্ফ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক কলেজ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইসলামী মিশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনেরসহ বিভিন্ন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন। এ ছাড়া ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও আহসানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালের পক্ষ থেকে সকালে বিনামূল্যে চিকিৎসাকেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অসুস্থ মুসল্লিদের চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের ছুটি বাতিল

ইজতেমা উপলক্ষে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সব প্রস্তুতি নিয়েছে। মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইজতেমায় দায়িত্ব পালনকারী সব চিকিৎসক ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আলী হায়দার খান। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মেডিকেল অফিসারদের তালিকা ও ডিউটি রোস্টার করা হয়েছে। তিন পালায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও মেডিকেল অফিসাররা ইজতেমা ময়দানে ডিউটি করছেন। এ ছাড়া টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে আরো শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ হাসপাতালের উদ্যোগে মুন্নু গেট, বাটা গেট ও এটলাস হোন্ডা রোডে মুসল্লিদের তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। মুসল্লি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে হোটেলে খাবারের মান ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিস্ট্রেটসহ স্যানিটেশন টিম কাজ করছে।

ইজতেমায় বিশেষ ট্রেন ও বাস সার্ভিস

ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ইজতেমা শুরুর আগের দিন থেকে বিআরটিসির শতাধিক স্পেশাল বাস সার্ভিস চলাচল করছে। বিআরটিসির এসব বাস আবদুল্লাহপুর-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল, শিববাড়ী-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল, টঙ্গী-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল, গাজীপুর-চৌরাস্তা, মতিঝিল-ভায়া ইজতেমাস্থল, গাবতলী-গাজীপুর ভায়া ইজতেমাস্থল, গাবতলী-মহাখালী ভায়া ইজতেমাস্থল, গাজীপুর-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল, মতিঝিল-বাইপাল ভায়া ইজতেমাস্থল বিআরটিসির বাস সার্ভিস চলাচল করছে।

অপরদিকে বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস পরিচালনা করছে। এ ছাড়া সব আন্তনগর, মেইল এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুই ধাপের ইজতেমার প্রথম ধাপের শুক্রবার ঢাকা-টঙ্গী-ঢাকা দুটি জুমা স্পেশাল, আখেরি মোনাজাতের আগের দুদিন জামালপুর ও আখাউড়া থেকে দুটি করে চারটি অতিরিক্ত ট্রেন চলাচল করছে।

বিশ্ব ইজতেমার তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি মাওলানা গিয়াস উদ্দীন জানান, গত বছর ৩২টি জেলা নিয়ে ইজতেমার দুই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা দুই পর্বে বছর অংশ নিচ্ছে। এ বছরের প্রথম পর্বে অংশ নেবে ঢাকার একাংশসহ ১৭টি জেলার তাবলিগ জামাতের অনুসারীরা। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবে ১৫টি জেলাসহ ঢাকার বাকি অংশের তাবলিগ অনুসারীরা। তবে বিদেশি মুসল্লিরা প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন। মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বের ইজতেমা শুরু পর ২০১৫ সালে আবারও এ পরিবর্তন আনা হয়। বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষ পর্যায়ের মুরুব্বিরা ইজতেমার এ তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

Facebook Comments


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর





logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Head Office: Jeleeb al shouyoukh
Mahrall complex , Mezzanine floor, Office No: 14
Po.box No: 41260, Zip Code: 85853
KUWAIT
Phone : +965 65535272

Dhaka Office : 69/C, 6th Floor, Panthopath,
Dhaka, Bangladesh.
Phone : +8801733966556 / +8801920733632

For News :
agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com