Menu |||

পিবিআই’য়ের তদন্ত টিম রাঙ্গুনিয়ায় পাল্টা মামলা এখনো পৌঁছেনি তদন্ত সংস্থার কাছে

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলাকারীদের চেনেন না ঘটনাস্থলের আশপাশের দোকানদাররা। প্রত্যক্ষদর্শী এসব দোকানদারদের কেউ কেউ হামলার ঘটনা দেখেছেন তবে এসময় মুষলধারে বৃষ্টি হবার কারণে কাউকে তারা চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। কয়েকজন দোকানদার ঘটনার সময় তাদের দোকান বন্ধ ছিল বলে দাবী করেছেন। রোববার (২ জুলাই) সকালে বিএনপির পক্ষে সাবেক জেলা পিপি অ্যাডভোকেট এনামুল হকের দায়ের করা মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল রাঙ্গুনিয়ায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়িবহরে হামলার সত্যতা পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা কারা হামলা করেছে সে বিষয়ে কোন তথ্য দেননি পিবিআইকে। এই অবস্থায় পিবিআই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় আদালতে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের নির্দেশে উভয় মামলা তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়া হয়েছে। তবে গাড়ি চাপা দেয়ার অভিযোগে সিএনজি চালক মো. মহসিনের দায়ের করা পাল্টা মামলাটি এখনো পিবিআইয়ের কাছে অফিসিয়ালি পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন পিবিআই’র পরিদর্শক আবু জাফর মো.ওমর ফারুক । রোববার সকালে পিবিআইয়ের বিভাগীয় বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) জুলফিকার আলী হায়দারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি টিম ঘটনাস্থল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর ইছাখালীতে পরিদর্শনে যান। সকাল ১০টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ১১ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অনেকেই বলেছেন হামলার ঘটনা সত্য, কিন্তু হামলকারীদের কেউ চেনে না। দোকানদারদের জিজ্ঞেস করেছি, তারা বলেছেন দোকান বন্ধ ছিল। আবার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন পেয়েছি। তারা বলেছেন, হামলকারীদের তারা চিনতে পারেননি। এখন আমরা ভিডিও ফুটেজ পাই কি না দেখছি। সূত্রমতে, বিএনপির দায়ের করা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পরিদর্শক শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম। তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। বাকি দুজন হলেন, পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. আব্দুর রহিম এবং পরিদর্শক আবু জাফর মো. ওমর ফারুক। তদন্ত পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন পিবিআইয়ের বিভাগীয় বিশেষ পুলিশ সুপার জুলফিকার আলী হায়দার। তদন্ত টিমের সদস্য পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘বিভাগীয় এসএসপি স্যারের নেতৃত্বে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ২৬ বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামী করে সিএনজি চালক মহসিনের দায়ের করা মামলাটি এখনো আদালত থেকে পিবিআইয়ের কাছে পৌঁছেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।’ ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ আনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ঘটনাটি অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক দাবি করে বলেছিলেন ফখরুলের গাড়িবহরের ধাক্কায় দুজন আহত হওয়ার পর স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে হামলা চালিয়েছে। সংসদেও এমন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। গত ১৮ জুন সকাল ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর ইছাখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কাপ্তাই সড়কে মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্থ রাঙামাটিতে ত্রাণ নিয়ে যাবার পথে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর রাঙামাটি যেতে না পেরে চট্টগ্রামে ফিরে আসে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলটি। এই ঘটনায় ২১ জুন বিএনপির পক্ষ থেকে আদালতে দ্রুত বিচার আইনের ৪ ও ৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় রাঙ্গুনিয়া আ.লীগ ছাত্রলীগ- যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের রাজনীতিতে জড়িত ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে বিএনপির দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেঁধে দেন আদালত। আসামির তালিকায় আছেন, (১) মো. সরওয়ার পিতা – মৃত বশির আহমদ, সাং উত্তর ঘাটচেক,  (২) নাজিম উদ্দিন বাদশা, পিতা : মকবুল হোসেন, সাং জয়নগর পদুয়া, (৩) মো. রাসেল প্রকাশ রাশু, পিতা : মো. গফুর, সাং- ইছাখালী, (৪) মো. মহসিন, পিতা- দুলা মিয়া, সাং ইছাখালী, (৫) মো. জাহেদ, পিতা- আহমদ হোসেন, সাং ঘাটচেক, (৬) মো. জাহেদ, পিতা- লম্বা বদি, সাং- রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা, (৭) আলমগীর, পিতা- শামসুল আলম, মিনাগাজীর টিলা, শিলক, (৮) নঈমুল ইসলাম, পিতা- মফিজুল ইসলাম, সাং মুরাদনগর, (৯) শিমুল গুপ্ত, সাং- চন্দ্রঘোনা, (১০) পাভেল বড়ুয়া, পিতা কেবলা তালুকদার, সাং সৈয়দবাড়ি, (১১) ইকবাল হোসেন বাবলু, সাং- চন্দ্রঘোনা, (১২) মাহিন, পিতা বদ্দ্যা সওদাগর, সাং মুরাদনগর, (১৩) মো. ইউনুস, সাং সরফভাটা, (১৪) শামসুদ্দোহা সিকদার আরজু, সাং সৈয়দবাড়ি, (১৫) আবু তৈয়ব, পিতা- মৃত নজরুল ইসলাম, (১৬) এনামুল হক, পিতা মৃত হাজী আনোয়ার, সাং ইছাখালী, (১৭) মো. রাসেল, পিতা- মোবারক হোসেন, সাং ইছাখালী, (১৮) সাইফুল, পিতা ভত সওদাগর, সাং মুরাদ নগর, (১৯) মাহবুব, পিতা- দুলু মিয়া, সাং পূর্ব সরফভাটা, (২০) আনোয়ার, পিতা- আহমদ ছবির, সাং মধ্যম সরফভাটা, (২১) নেছার উল্লাহ, পিতা আমির হামজা, সাং দক্ষিণ সরফভাটা, (২২) বেলাল, পিতা- আবদুছ ছালাম সাং পশ্চিম সরফভাটা, (২৩) মুজাহিদ, পিতা- মাষ্টার নুরুল ইসলাম, সাং পশ্চিম সরফভাটা, (২৪) বাপ্পা, পিতা- আবদুল কাদের, সাং- চন্দ্রঘোনা, (২৫ ) মো. হারুন, পিতা- মৃত আহমদর রহমান, সাং চন্দ্রঘোনা, (২৬) জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, পিতা- মৃত মুন্সি মিয়া, সাং-পদুয়া। পরদিন ২২ জুন আরেকটি পাল্টা মামলা দায়ের হয় একই আদালতে। মির্জা ফখরুলের গাড়ির ধাক্কায় দুজন আহত ও তাদের মারধরের অভিযোগে দায়ের হওয়া পাল্টা মামলায় ২৬ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। মামলায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শওকত আলী নুর, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ মিয়া চৌধুরী, পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক মাহাবুব ছাফা, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম- সৈয়দবাড়ি,  নিজামুল হক তপন- বেতাগী, মাকসুদুল হক মাসুদ- বেতাগী, নিজাম উদ্দিন- ইসলামপুর, মো. আনসুর আলী- ঘাটচেক, মোহাম্মদ করিম- রাজানগর, মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান- রাজানগর, মোহাম্মদ মুরাদ- দক্ষিণ সৈয়দবাড়ি, মোহাম্মদ হাজী ইলিয়াস- চন্দ্রঘোনা, মোহাম্মদ বাবুল- চন্দ্রঘোনা, গোলাম ফারুক, চন্দ্রঘোনা, আজিজুল হক- পোমরা, মো. আলমগীর- পোমরা, হাবিবুর রহমান- নোয়াগাঁও, মো. ওমর ফারুখ, পোমরা, সাইফুল-পোমরা, মো. সৈয়দ নুর- সরফভাটা, নুরুল আলম- পশ্চিম সরফভাটা, মো. গোলাম নবী আপেল, এম এ আজিজ- বন্দর, চট্টগ্রাম,  মোস্তাফিজুর রহমান, আনোয়ারা থানা, সাইফুর রহমান শওকত ও হাজী মো. হানিফ- হালিশহর চট্টগ্রামসহ ২৬ জনকে আসামী করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে ও আসামী করা হয়। বাদির আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ বলেন, মির্জা ফখরুলের গাড়িবহর রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিএনজি অটোরিকশা চালক মহসিন ও আব্দুল আজিজের গাড়িতে ধাক্কা দেয় ও তাদের চাপা দেয়। এসময় তারা প্রতিবাদ করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা গাড়ি থেকে নেমে তাদের মারধর করেন। তাদের পকেট থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশাল সফলতা

» কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ প্রবাসীর মৃতদেহ কমলগঞ্জের কান্দিগাও পৌঁছেছে

» ঝালকাঠিতে ধরা হচ্ছে মা ইলিশ; বন্ধ হচ্ছেনা বিক্রি

» বীরগঞ্জে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে র‌্যালী

» দিনাজপুরে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন

» বীরগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

» রাঁধুনীর বিচারকের দায়িত্বে পূর্ণিমা

» হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর

» আগামী বুধবার দেশে ফিরবেন খালেদা জিয়া

» নতুন ছবি দিয়ে অভিনয়ে ফিরছেন শাবনূর



logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

পিবিআই’য়ের তদন্ত টিম রাঙ্গুনিয়ায় পাল্টা মামলা এখনো পৌঁছেনি তদন্ত সংস্থার কাছে

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলাকারীদের চেনেন না ঘটনাস্থলের আশপাশের দোকানদাররা। প্রত্যক্ষদর্শী এসব দোকানদারদের কেউ কেউ হামলার ঘটনা দেখেছেন তবে এসময় মুষলধারে বৃষ্টি হবার কারণে কাউকে তারা চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। কয়েকজন দোকানদার ঘটনার সময় তাদের দোকান বন্ধ ছিল বলে দাবী করেছেন। রোববার (২ জুলাই) সকালে বিএনপির পক্ষে সাবেক জেলা পিপি অ্যাডভোকেট এনামুল হকের দায়ের করা মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল রাঙ্গুনিয়ায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়িবহরে হামলার সত্যতা পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা কারা হামলা করেছে সে বিষয়ে কোন তথ্য দেননি পিবিআইকে। এই অবস্থায় পিবিআই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় আদালতে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের নির্দেশে উভয় মামলা তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়া হয়েছে। তবে গাড়ি চাপা দেয়ার অভিযোগে সিএনজি চালক মো. মহসিনের দায়ের করা পাল্টা মামলাটি এখনো পিবিআইয়ের কাছে অফিসিয়ালি পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন পিবিআই’র পরিদর্শক আবু জাফর মো.ওমর ফারুক । রোববার সকালে পিবিআইয়ের বিভাগীয় বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) জুলফিকার আলী হায়দারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি টিম ঘটনাস্থল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর ইছাখালীতে পরিদর্শনে যান। সকাল ১০টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ১১ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অনেকেই বলেছেন হামলার ঘটনা সত্য, কিন্তু হামলকারীদের কেউ চেনে না। দোকানদারদের জিজ্ঞেস করেছি, তারা বলেছেন দোকান বন্ধ ছিল। আবার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন পেয়েছি। তারা বলেছেন, হামলকারীদের তারা চিনতে পারেননি। এখন আমরা ভিডিও ফুটেজ পাই কি না দেখছি। সূত্রমতে, বিএনপির দায়ের করা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পরিদর্শক শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম। তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। বাকি দুজন হলেন, পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. আব্দুর রহিম এবং পরিদর্শক আবু জাফর মো. ওমর ফারুক। তদন্ত পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন পিবিআইয়ের বিভাগীয় বিশেষ পুলিশ সুপার জুলফিকার আলী হায়দার। তদন্ত টিমের সদস্য পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘বিভাগীয় এসএসপি স্যারের নেতৃত্বে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ২৬ বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামী করে সিএনজি চালক মহসিনের দায়ের করা মামলাটি এখনো আদালত থেকে পিবিআইয়ের কাছে পৌঁছেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।’ ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ আনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ঘটনাটি অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক দাবি করে বলেছিলেন ফখরুলের গাড়িবহরের ধাক্কায় দুজন আহত হওয়ার পর স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে হামলা চালিয়েছে। সংসদেও এমন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। গত ১৮ জুন সকাল ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর ইছাখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কাপ্তাই সড়কে মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্থ রাঙামাটিতে ত্রাণ নিয়ে যাবার পথে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর রাঙামাটি যেতে না পেরে চট্টগ্রামে ফিরে আসে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলটি। এই ঘটনায় ২১ জুন বিএনপির পক্ষ থেকে আদালতে দ্রুত বিচার আইনের ৪ ও ৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় রাঙ্গুনিয়া আ.লীগ ছাত্রলীগ- যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের রাজনীতিতে জড়িত ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে বিএনপির দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেঁধে দেন আদালত। আসামির তালিকায় আছেন, (১) মো. সরওয়ার পিতা – মৃত বশির আহমদ, সাং উত্তর ঘাটচেক,  (২) নাজিম উদ্দিন বাদশা, পিতা : মকবুল হোসেন, সাং জয়নগর পদুয়া, (৩) মো. রাসেল প্রকাশ রাশু, পিতা : মো. গফুর, সাং- ইছাখালী, (৪) মো. মহসিন, পিতা- দুলা মিয়া, সাং ইছাখালী, (৫) মো. জাহেদ, পিতা- আহমদ হোসেন, সাং ঘাটচেক, (৬) মো. জাহেদ, পিতা- লম্বা বদি, সাং- রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা, (৭) আলমগীর, পিতা- শামসুল আলম, মিনাগাজীর টিলা, শিলক, (৮) নঈমুল ইসলাম, পিতা- মফিজুল ইসলাম, সাং মুরাদনগর, (৯) শিমুল গুপ্ত, সাং- চন্দ্রঘোনা, (১০) পাভেল বড়ুয়া, পিতা কেবলা তালুকদার, সাং সৈয়দবাড়ি, (১১) ইকবাল হোসেন বাবলু, সাং- চন্দ্রঘোনা, (১২) মাহিন, পিতা বদ্দ্যা সওদাগর, সাং মুরাদনগর, (১৩) মো. ইউনুস, সাং সরফভাটা, (১৪) শামসুদ্দোহা সিকদার আরজু, সাং সৈয়দবাড়ি, (১৫) আবু তৈয়ব, পিতা- মৃত নজরুল ইসলাম, (১৬) এনামুল হক, পিতা মৃত হাজী আনোয়ার, সাং ইছাখালী, (১৭) মো. রাসেল, পিতা- মোবারক হোসেন, সাং ইছাখালী, (১৮) সাইফুল, পিতা ভত সওদাগর, সাং মুরাদ নগর, (১৯) মাহবুব, পিতা- দুলু মিয়া, সাং পূর্ব সরফভাটা, (২০) আনোয়ার, পিতা- আহমদ ছবির, সাং মধ্যম সরফভাটা, (২১) নেছার উল্লাহ, পিতা আমির হামজা, সাং দক্ষিণ সরফভাটা, (২২) বেলাল, পিতা- আবদুছ ছালাম সাং পশ্চিম সরফভাটা, (২৩) মুজাহিদ, পিতা- মাষ্টার নুরুল ইসলাম, সাং পশ্চিম সরফভাটা, (২৪) বাপ্পা, পিতা- আবদুল কাদের, সাং- চন্দ্রঘোনা, (২৫ ) মো. হারুন, পিতা- মৃত আহমদর রহমান, সাং চন্দ্রঘোনা, (২৬) জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, পিতা- মৃত মুন্সি মিয়া, সাং-পদুয়া। পরদিন ২২ জুন আরেকটি পাল্টা মামলা দায়ের হয় একই আদালতে। মির্জা ফখরুলের গাড়ির ধাক্কায় দুজন আহত ও তাদের মারধরের অভিযোগে দায়ের হওয়া পাল্টা মামলায় ২৬ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। মামলায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শওকত আলী নুর, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ মিয়া চৌধুরী, পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক মাহাবুব ছাফা, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম- সৈয়দবাড়ি,  নিজামুল হক তপন- বেতাগী, মাকসুদুল হক মাসুদ- বেতাগী, নিজাম উদ্দিন- ইসলামপুর, মো. আনসুর আলী- ঘাটচেক, মোহাম্মদ করিম- রাজানগর, মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান- রাজানগর, মোহাম্মদ মুরাদ- দক্ষিণ সৈয়দবাড়ি, মোহাম্মদ হাজী ইলিয়াস- চন্দ্রঘোনা, মোহাম্মদ বাবুল- চন্দ্রঘোনা, গোলাম ফারুক, চন্দ্রঘোনা, আজিজুল হক- পোমরা, মো. আলমগীর- পোমরা, হাবিবুর রহমান- নোয়াগাঁও, মো. ওমর ফারুখ, পোমরা, সাইফুল-পোমরা, মো. সৈয়দ নুর- সরফভাটা, নুরুল আলম- পশ্চিম সরফভাটা, মো. গোলাম নবী আপেল, এম এ আজিজ- বন্দর, চট্টগ্রাম,  মোস্তাফিজুর রহমান, আনোয়ারা থানা, সাইফুর রহমান শওকত ও হাজী মো. হানিফ- হালিশহর চট্টগ্রামসহ ২৬ জনকে আসামী করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে ও আসামী করা হয়। বাদির আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ বলেন, মির্জা ফখরুলের গাড়িবহর রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিএনজি অটোরিকশা চালক মহসিন ও আব্দুল আজিজের গাড়িতে ধাক্কা দেয় ও তাদের চাপা দেয়। এসময় তারা প্রতিবাদ করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা গাড়ি থেকে নেমে তাদের মারধর করেন। তাদের পকেট থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

Facebook Comments


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর





logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Head Office: Jeleeb al shouyoukh
Mahrall complex , Mezzanine floor, Office No: 14
Po.box No: 41260, Zip Code: 85853
KUWAIT
Phone : +965 65535272

Dhaka Office : 69/C, 6th Floor, Panthopath,
Dhaka, Bangladesh.
Phone : +8801733966556 / +8801920733632

For News :
agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com