Menu |||

ঢাকায় দিনভর যা ঘটল

4bn427932afd81ypsu_800C450-121

ডেস্ক নিউজ : বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। ওই রায়কে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে ঘটেছে নানা ঘটনা।

মোড়ে মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত এবং এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি ছিল র‌্যাব ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা।

আদালত প্রাঙ্গন পরিদর্শনে র‌্যাব ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা

খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা কঠোর নিরাপত্তা বলয় পরিদর্শন করতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পুরান ঢাকাস্থ আদালত প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এ সময় তারা নগরবাসীকে নিরাপত্তার দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন

নগরী ফাঁকা, বন্ধ দোকানপাট

সকাল থেকেই যানজট রাজধানীর প্রত্যেকটি রাস্তা ফাঁকা দেখা গেছে। সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, শাহবাগ, পুরান ঢাকা, গুলিস্তান, নয়াপল্টনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর রাস্তাগুলো ফাঁকা রয়েছিল। তবে খুব অল্পকিছু বাস ও অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।

খালেদায় বাসায় প্রবেশে কড়াকড়ি, আইনজীবীর প্রবেশ

সকাল থেকেই খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসা ”ফিরোজা”য় কোনো নেতাকর্মীকে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। তবে খালেদার আইনজীবী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সকাল সাড়ে ৯টার পর ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।

যেভাবে আদালতে গেলেন খালেদা

মামলার রায় শুনতে আদালতের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌনে ১২টায় পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আদালতের পথে রওনা হন খালেদা জিয়া। এ সময় তার গাড়িবহরে ১৩টি গাড়ি ছিল। প্রথমে গাড়িবহরে নেতকর্মীরা না থাকলেও তেজগাঁও এলাকায় যেতেই নেতাকর্মীদের মিছিল গাড়িবহরকে ঘিরে ফেলে। মগবাজার রেল ক্রসিংয়ে পৌঁছার আগেই নেতাকর্মীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। এ নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে খালেদাকেআদালত প্রাঙ্গনে নিয়ে যায়। তবে আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয় নেতাকর্মীদের। ১টা ৪০ মিনিটের সময় খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হন।

পথে পথে সংঘর্ষ

খালেদা জিয়াকে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় মগবাজার এলাকায়। পরে কাকরাইল ও চানখার পুল এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়।

হেঁটে হেঁটে আদালতে গেলেন মির্জা ফখরুল

সকাল থেকে বিএনপির শীর্ষ নেতারা নয়া পল্টন কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। পৌণে ১টার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে আদালতের দিকে রওয়ানা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু কদম ফোয়ারায় আসামাত্র পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে ১টা ১০ মিনিটের সময় গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে হেঁটে আদালতের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে হাই কোর্টের প্রধান গেইটের সামনে গিয়ে দুটি রিকশায় তারা আদালাতে যান।

আইনজীবী-পুলিশ মুখোমুখি

সকাল ১১টা ৬ মিনিটের সময় আদালত চত্বরে প্রবেশের সর্বশেষ গেইটে কয়েকজন আইনজীবী ঢুকতে গেলে পুলিশ তাদেরও বাধা দেয়। এছাড়াও সকাল ১০টা থেকে হাইকোর্ট প্রধান গেইটে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা মিছিল শুরু করে। এ সময় পুলিশ গেইট বন্ধ করে দিয়ে দু’জন নারীসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি সমর্থককে আটক করে।

রায় পড়া শুরু

বেলা ১টা ৪০ মিনিটে আদালতে হাজির হওয়ার পর ২টা ১০ মিনিটের সময় আদালতের চেয়ারে বসেন খালেদা জিয়া। বেলা সোয়া ২টায় রায় ঘোষণা শুরু করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান। ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তসার তিনি আদালতে পড়ে শোনান।

রায়ে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে দশ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। সেই সঙ্গে তাদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার করে জরিমানা করেন বিচারক।

যেভাবে কারাগারে পাঠানো হয় খালেদাকে

বেলা ২টা ৫৫ মিনিটের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগার ভবনে নিয়ে যায় । কারা অধিদপ্তরের সামনে দিয়ে ৩টা ১৩ মিনিটের সময় কারাগারে প্রবেশ করে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি।

কারাগারে যেসব সুবিধা পেলেন খালেদা

পুরান ঢাকার অস্থায়ী কারাগারে খালেদা জিয়ার জন্য দুটি কক্ষ দেয়া হয়েছে। তাঁর জন্য ২৪ ঘন্টা ডাক্তার থাকবেন। প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পাবেন তিনি। বেগম জিয়ার খাওয়ার আগে তাঁর খাবার পরীক্ষা করবেন ডাক্তার।

ডেপুটি জেলার থাকবেন। খাবার সংরক্ষণের জন্য দেয়া হয়েছে পুরোনো একটি ফ্রিজ। পাশের রুমে গ্যাসের চুলায় রান্নার আয়োজন চলছে। পত্রিকা পাবেন ইত্তেফাক, জনকন্ঠ ও ডেইলি অবজারভার। বিটিভি দেখার সুযোগ পাবেন খালেদা জিয়া। খাট ও টেবিল গতকাল দেয়া হয়েছে। ডে কেয়ারে সুবিধাও পাবেন তিনি।

রায়ের পক্ষ-বিপক্ষে বক্তব্য

রায় ঘোষণার পর বিকাল তিনটা ১১ মিনিটের সময় বিএনপির আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন রায়ের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। তবে আমরা উচ্চ আদালতে যাব ইনশাল্লাহ। আশা করি, সেখানে বিচার পাব।

অপরদিকে বিকাল ৩টা ১০ মিনিটের সময় সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশে আইনের শাসন আছে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন – এই রায়ে তা প্রমাণ হল।

তিনি বলেন, আমি যতদূর জানি উকিল হিসেবে, আজকেই উনার কারাগারে যেতে হবে। রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পরে তারা আপিল করতে পারে এবং সেখানে আপিল করার সাথে সাথে তারা বেইল পিটিশনও দিতে পারে। রায় ৬৩২ পৃষ্ঠার হওয়ায় বৃহস্পতিবার রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই বলে জানান আইনমন্ত্রী।

বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

রায় ঘোষণার পর বিকালে বিএনপির নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্র ও শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষনা করেন।

রাজীব-শিমুল আটক

রায় ঘোষণার পর আদালত পাড়া থেকে বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দলটির নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া

রায় ঘোষণার পর রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বিষয় নয়। এ রায়ে আওয়ামী লীগের সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট হওয়ার বিষয় নয়। এটা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। এতে প্রমাণিত হয়েছে, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। এতদিন বলে আসছিলাম যে তারা অপরাধ্‌ তা প্রমাণিত হয়েছে।

দিনভর উদ্বেগ, আতঙ্ক

রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বুধবার সন্ধ্যা থেকে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের রাজধানীর মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» খোকসায় বিয়ের দাবিতে ছাত্রলীগ সভাপতি সুজনের বাড়িতে অনশনে গৃহবধু!

» মাতৃভাষা চর্চায় ইসলামী দৃষ্টিকোণ

» বাংলাদেশে নগরদরিদ্ররা কতটা সুযোগ পাচ্ছেন?

» ফেসবুক যুগের অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি কামনা

» পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যাবে ২৪ ঘণ্টা

» বাবার পদকে ভূষিত সুবর্ণা মুস্তাফা

» কমল হাসানের নতুন রাজনৈতিক দল

» প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাম্ভিকতার প্রতিধ্বনী : মোস্তফা

» প্রতি দুই সপ্তাহে হারাচ্ছে একটি ভাষা: ইউনেস্কো

» সিরিয়ায় বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে



logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

ঢাকায় দিনভর যা ঘটল

4bn427932afd81ypsu_800C450-121

ডেস্ক নিউজ : বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। ওই রায়কে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে ঘটেছে নানা ঘটনা।

মোড়ে মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত এবং এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি ছিল র‌্যাব ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা।

আদালত প্রাঙ্গন পরিদর্শনে র‌্যাব ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা

খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা কঠোর নিরাপত্তা বলয় পরিদর্শন করতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পুরান ঢাকাস্থ আদালত প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এ সময় তারা নগরবাসীকে নিরাপত্তার দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন

নগরী ফাঁকা, বন্ধ দোকানপাট

সকাল থেকেই যানজট রাজধানীর প্রত্যেকটি রাস্তা ফাঁকা দেখা গেছে। সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, শাহবাগ, পুরান ঢাকা, গুলিস্তান, নয়াপল্টনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর রাস্তাগুলো ফাঁকা রয়েছিল। তবে খুব অল্পকিছু বাস ও অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।

খালেদায় বাসায় প্রবেশে কড়াকড়ি, আইনজীবীর প্রবেশ

সকাল থেকেই খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসা ”ফিরোজা”য় কোনো নেতাকর্মীকে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। তবে খালেদার আইনজীবী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সকাল সাড়ে ৯টার পর ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।

যেভাবে আদালতে গেলেন খালেদা

মামলার রায় শুনতে আদালতের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌনে ১২টায় পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আদালতের পথে রওনা হন খালেদা জিয়া। এ সময় তার গাড়িবহরে ১৩টি গাড়ি ছিল। প্রথমে গাড়িবহরে নেতকর্মীরা না থাকলেও তেজগাঁও এলাকায় যেতেই নেতাকর্মীদের মিছিল গাড়িবহরকে ঘিরে ফেলে। মগবাজার রেল ক্রসিংয়ে পৌঁছার আগেই নেতাকর্মীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। এ নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে খালেদাকেআদালত প্রাঙ্গনে নিয়ে যায়। তবে আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয় নেতাকর্মীদের। ১টা ৪০ মিনিটের সময় খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হন।

পথে পথে সংঘর্ষ

খালেদা জিয়াকে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় মগবাজার এলাকায়। পরে কাকরাইল ও চানখার পুল এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়।

হেঁটে হেঁটে আদালতে গেলেন মির্জা ফখরুল

সকাল থেকে বিএনপির শীর্ষ নেতারা নয়া পল্টন কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। পৌণে ১টার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে আদালতের দিকে রওয়ানা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু কদম ফোয়ারায় আসামাত্র পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে ১টা ১০ মিনিটের সময় গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে হেঁটে আদালতের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে হাই কোর্টের প্রধান গেইটের সামনে গিয়ে দুটি রিকশায় তারা আদালাতে যান।

আইনজীবী-পুলিশ মুখোমুখি

সকাল ১১টা ৬ মিনিটের সময় আদালত চত্বরে প্রবেশের সর্বশেষ গেইটে কয়েকজন আইনজীবী ঢুকতে গেলে পুলিশ তাদেরও বাধা দেয়। এছাড়াও সকাল ১০টা থেকে হাইকোর্ট প্রধান গেইটে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা মিছিল শুরু করে। এ সময় পুলিশ গেইট বন্ধ করে দিয়ে দু’জন নারীসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি সমর্থককে আটক করে।

রায় পড়া শুরু

বেলা ১টা ৪০ মিনিটে আদালতে হাজির হওয়ার পর ২টা ১০ মিনিটের সময় আদালতের চেয়ারে বসেন খালেদা জিয়া। বেলা সোয়া ২টায় রায় ঘোষণা শুরু করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান। ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তসার তিনি আদালতে পড়ে শোনান।

রায়ে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে দশ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। সেই সঙ্গে তাদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার করে জরিমানা করেন বিচারক।

যেভাবে কারাগারে পাঠানো হয় খালেদাকে

বেলা ২টা ৫৫ মিনিটের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগার ভবনে নিয়ে যায় । কারা অধিদপ্তরের সামনে দিয়ে ৩টা ১৩ মিনিটের সময় কারাগারে প্রবেশ করে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি।

কারাগারে যেসব সুবিধা পেলেন খালেদা

পুরান ঢাকার অস্থায়ী কারাগারে খালেদা জিয়ার জন্য দুটি কক্ষ দেয়া হয়েছে। তাঁর জন্য ২৪ ঘন্টা ডাক্তার থাকবেন। প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পাবেন তিনি। বেগম জিয়ার খাওয়ার আগে তাঁর খাবার পরীক্ষা করবেন ডাক্তার।

ডেপুটি জেলার থাকবেন। খাবার সংরক্ষণের জন্য দেয়া হয়েছে পুরোনো একটি ফ্রিজ। পাশের রুমে গ্যাসের চুলায় রান্নার আয়োজন চলছে। পত্রিকা পাবেন ইত্তেফাক, জনকন্ঠ ও ডেইলি অবজারভার। বিটিভি দেখার সুযোগ পাবেন খালেদা জিয়া। খাট ও টেবিল গতকাল দেয়া হয়েছে। ডে কেয়ারে সুবিধাও পাবেন তিনি।

রায়ের পক্ষ-বিপক্ষে বক্তব্য

রায় ঘোষণার পর বিকাল তিনটা ১১ মিনিটের সময় বিএনপির আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন রায়ের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। তবে আমরা উচ্চ আদালতে যাব ইনশাল্লাহ। আশা করি, সেখানে বিচার পাব।

অপরদিকে বিকাল ৩টা ১০ মিনিটের সময় সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশে আইনের শাসন আছে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন – এই রায়ে তা প্রমাণ হল।

তিনি বলেন, আমি যতদূর জানি উকিল হিসেবে, আজকেই উনার কারাগারে যেতে হবে। রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পরে তারা আপিল করতে পারে এবং সেখানে আপিল করার সাথে সাথে তারা বেইল পিটিশনও দিতে পারে। রায় ৬৩২ পৃষ্ঠার হওয়ায় বৃহস্পতিবার রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই বলে জানান আইনমন্ত্রী।

বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

রায় ঘোষণার পর বিকালে বিএনপির নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্র ও শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষনা করেন।

রাজীব-শিমুল আটক

রায় ঘোষণার পর আদালত পাড়া থেকে বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দলটির নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া

রায় ঘোষণার পর রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বিষয় নয়। এ রায়ে আওয়ামী লীগের সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট হওয়ার বিষয় নয়। এটা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। এতে প্রমাণিত হয়েছে, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। এতদিন বলে আসছিলাম যে তারা অপরাধ্‌ তা প্রমাণিত হয়েছে।

দিনভর উদ্বেগ, আতঙ্ক

রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বুধবার সন্ধ্যা থেকে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের রাজধানীর মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

Facebook Comments


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর





logo copy

Editor-In-Chief & Agrodristi Group’s Director : A.H. Jubed

Legal Adviser : Advocate S.M. Musharrof Hussain Setu (Supreme Court of Bangladesh)

Editor-in-Chief at Health Affairs : Dr. Farhana Mobin (Square Hospital Dhaka)

Editor Dhaka Desk : Mohammad Saiyedul Islam

Editor of Social Welfare : Ruksana Islam (Runa)

Head Office: Jeleeb al shouyoukh
Mahrall complex , Mezzanine floor, Office No: 14
Po.box No: 41260, Zip Code: 85853
KUWAIT
Phone : +965 65535272

Dhaka Office : 69/C, 6th Floor, Panthopath,
Dhaka, Bangladesh.
Phone : +8801733966556 / +8801920733632

For News :
agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com